সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর: ওয়ার্ক পারমিট সহজ করছে আরব আমিরাত বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভাঙলেও পুরো বেতন পাচ্ছেন সেই সোমালিয়ান রেফারি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য, আপত্তিকর অংশ এক্সপাঞ্জ ইরান রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে, ইসরায়েলে ‘আতঙ্ক’ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরছে ‘৭-১’ গোলের স্মৃতি লেবাননে ইসরাইলের রাসায়নিক ‘গ্লাইফোসেট’ ব্যবহারের অভিযোগ শরণার্থী শিবিরে জন্ম, ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস দুবাই বিমানবন্দরে এআই ক্যামেরায় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার হন বেনজীর রামিসা হত্যার দায় স্বীকার করে জেল আপিলে যা বলেছেন আসামি সোহেল

কানাডার সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সম্পর্ক ছিন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে চালু থাকা কানাডার সঙ্গে যৌথ মহাদেশীয় প্রতিরক্ষা বোর্ডে আর অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অভিযোগ, কানাডা তার প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী এলব্রিজ কোলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার দপ্তর ‘পার্মানেন্ট জয়েন্ট বোর্ড অন ডিফেন্সে’ অংশগ্রহণ স্থগিত করছে। এই ফোরামের কার্যকারিতা ও উপকারিতা নতুন করে মূল্যায়ন করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত এই বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। তবে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোলবি লেখেন, কঠোর সামরিক সক্ষমতাকে কথার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া শক্তিশালী কানাডা সবার জন্যই উপকারী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দেশটি তার প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

তিনি বলেন, বক্তব্য আর বাস্তবতার মধ্যকার ফাঁক আমরা আর এড়িয়ে যেতে পারি না। প্রকৃত শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকে যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পশ্চিমা মিত্রদের সমালোচনার এটি সর্বশেষ ঘটনা। ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মিত্র দেশগুলো। তবে মিত্র রাষ্ট্রগুলো এ অভিযোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

গত বছর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে প্রায় সব সদস্যরাষ্ট্রই তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। যদিও স্পেন এ চুক্তি থেকে নিজেদের অব্যাহতি চেয়েছিল। কানাডাও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে এই বাড়তি ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ছিল।

কানাডা সরকার জানিয়েছে, প্রতিরক্ষার জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশ ব্যয়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ দেশের মূল সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যয় করা হবে। বাকি অর্থ বন্দর উন্নয়ন, জরুরি প্রস্তুতি ও অন্যান্য নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় হবে।

২০২৫ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পক্ষে সরব ছিলেন। চলতি বছরে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার কথা বলেন, যেখানে কানাডার মতো মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো একজোট হয়ে বর্তমান মহাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগ এড়িয়ে চলবে। এ বক্তব্যে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD