ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেই রাজ্যে বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার এই ঘোষণার ফলে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যারা ভারতে ঢুকেছেন, তারা সবাই অবৈধ বলে বিবেচিত হবেন।
বুধবার (২০ মে) রাজ্যের সচিবালয় ও প্রধান প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নতে মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকের পর সিএএ আইন পশ্চিমবঙ্গে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারত সরকার ২০২৫ সালের ১৪ মে একটি নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে পাঠায়। যারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, তাদের সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করার জন্য ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হস্তান্তর করার জন্য যে আইন তা–ও ভারত সরকারের পক্ষে আন্ডার সেক্রেটারি প্রতাপ সিং রাওয়াত পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকার একদিকে শরণার্থীদের সিএএ (নাগরিকত্ব) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে এই ‘গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বা আইন’ কাজে লাগায়নি। আজ (বুধবার) থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম। এর ফলে সিএএর অন্তর্ভুক্ত যারা…সিএএতে বলা আছে সাতটি সম্প্রদায় বা ধর্মপালন করা লোকদের কথা, যারা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় আসবেন। যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসেছেন, তাদের পুলিশ কোথাও হেনস্তা করতে পারবে না।
জানা গেছে, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুসলমান সম্প্রদায় সিএএর আওতাভুক্ত। আইনটির কিছু পরিমার্জন ২০২৪ সালে করা হয়েছে। এ কারণে ভারতে আসা মানুষেরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রবেশ করলে তাদের আইনগতভাবে নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশের মুসলমান মানুষের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।
এদিকে অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধান পাওয়া গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সিএএর আওতায় যারা নেই, তারা হলেন সম্পূর্ণভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে ও আটকাবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। বিএসএফ বিডিআরের (বিজিবি) সঙ্গে কথা বলে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশের মহাপরিচালক ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে অবহিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সন্নিহিত সমস্ত থানায় দেশের স্বার্থে এবং পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে এই আইন আমরা আজ থেকে কার্যকর করলাম।
জানা গেছে, শুভেন্দু অধিকারী বুধবার সকালে উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বিএসএফের কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বিএসএফের হাতে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমিও তুলে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খোলেন।
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের সংসদে পাস হয় এবং ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছিল, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিষ্টানদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে।
২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। দেশটির পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনে এই আইন পাস হয়েছিল। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সংখ্যার জোরে আইন পাস করিয়ে নেয় কেন্দ্র।