সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সৌদির সঙ্গে ‘ডিজিটাল করিডর’ চালুর উদ্যোগ পাকিস্তানের যমুনা সেতুতে টোল আদায় সোয়া ৩ কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে চান ট্রাম্প : নেতানিয়াহু খসড়া চুক্তিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা, চলছে অভিযান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে চান ট্রাম্প : নেতানিয়াহু মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়: প্রধানমন্ত্রী ‘হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ যেকোনো সময় ভেঙে দিতে পারে ইরান’

‘হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ যেকোনো সময় ভেঙে দিতে পারে ইরান’

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মহসেন রেজায়ি বলেছেন, ইরানের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ অচলাবস্থায় পড়ে গেছে।

রোববার (২৪ মে) রেজায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযান পুরো অঞ্চলে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত নৌ অবরোধ যেকোনো সময় ভেঙে দিতে পারে এবং এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন “সম্পূর্ণ অচলাবস্থার” মধ্যে রয়েছে। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে “অন্ধকার ও অন্তহীন এক করিডোরে” আবিষ্কার করবে, যা হরমুজ প্রণালি থেকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, বাব আল-মান্দাব এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

রেজায়ি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ইরানকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে এবং তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে চাপ দিচ্ছে।

তার মতে, কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য ইরানের “শক্তিশালী কারণ” রয়েছে। তিনি বলেন, তেহরানের উদ্দেশ্য হলো পারস্য উপসাগরকে সামরিক মোতায়েন ও অস্থিতিশীলতার কেন্দ্রে পরিণত হতে না দেওয়া।

রেজায়ী দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খোলা রয়েছে, তবে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হচ্ছে সামরিক কর্মকাণ্ড ও সংঘাত উসকে দিতে পারে এমন কার্যকলাপের ওপর।

তিনি আরও বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এবং তিনি যাকে “১২ দিনের যুদ্ধ” বলেছেন, সে সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম এই প্রণালী দিয়ে গিয়েছে, যা পরে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান এখনও আইএইএ এবং এনপিটির সদস্য এবং তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

তার দাবি, আইএইএ’র পরিদর্শকরা বারবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও স্বীকার করেছে যে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি।

রেজায়ী আরও বলেন, ওয়াশিংটনের “অতিরিক্ত দাবি” এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। তার মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—সামরিক সংঘাত অথবা আলোচনার মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা।

পারস্য উপসাগরে সামরিক ভারসাম্য নিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারলেও তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতার আওতার মধ্যেই থাকবে।

তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা এই অঞ্চলে প্রবেশের ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন এবং এটিকে তারা একটি “বিপজ্জনক করিডোর” হিসেবে বিবেচনা করেন।

রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো সামরিক সংঘাত পারস্য উপসাগর ছাড়িয়ে লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তার ভাষায়, “সবার আগে এই অঞ্চল থেকে পালাবে আমেরিকানরাই।”

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান সরাসরি তথাকথিত “নৌ অবরোধ”-এর মোকাবিলা করা থেকে বিরত থেকেছে। তবে উত্তেজনা আরও বাড়লে তেহরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। তার মতে, এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়াও ইরানের সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর একটি।

শেষে রেজায়ী বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে গভীর উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, কারণ তারা এটিকে ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে। তবে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের “লাল রেখা” অতিক্রম করা হলে তেহরান “কঠোর জবাব” দেবে।

সূত্র: মেহের নিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD