বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

এ বছর হারানো হাজীর সংখ্যা কমেছে: হাব মহাসচিব

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেছেন, চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনায় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে হারিয়ে যাওয়া হাজীর সংখ্যা এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, গাইড ও এজেন্সিগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় হাজীদের সেবাদান আরও সুসংগঠিত হয়েছে। মিনায় অবস্থান, আরাফাত ও মুজদালিফায় যাতায়াত, তাঁবু ব্যবস্থাপনা এবং খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় থাকায় ভোগান্তিও কম হয়েছে।পুরো বিষয়টি ধর্মমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার হজের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদি আরবের মক্কায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মুজদালিফা থেকে জামারাতে এসে পাথর নিক্ষেপ এবং তাওয়াফের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার দীর্ঘ পথে হাঁটার সময় কিছু বাংলাদেশি হাজী দলছুট ও হারিয়ে গেলেও তাদের অধিকাংশকে দ্রুত উদ্ধার করে নিজ নিজ হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, আগামী ৩০ মে থেকে বাংলাদেশি হাজীদের ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে। যেসব হাজী ৩০ তারিখের ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন, তারা ২৯ তারিখ জামারাতে পাথর নিক্ষেপসহ হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

কুরবানির অর্থ নেওয়া নিয়ে কিছু অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সৌদি সরকার এবার অনলাইনে কুরবানির পেমেন্ট নেওয়ায় আলাদা কোনো রিসিট দেয়নি। এ নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে যদি কোনো এজেন্সি হাজীদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ কম আসা নিয়ে হাব মহাসচিব বলেন, হজের শুরুতেই জাতীয় হজ কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ভিত্তিতে ধর্মমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন। হাবের পক্ষ থেকেও প্রতিটি এজেন্সিকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি যেন কোনো হাজী তার চুক্তিভিত্তিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হন। এজেন্সিগুলোও সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অভিযোগের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আমরা এটিকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই।

লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, এ বছর সৌদি সরকার নতুন একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ায় শুরুতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। অনেক সময় এক হোটেলের লাগেজ অন্য হোটেলে চলে গেছে। পরে ড্রপিং পয়েন্ট চালু করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

তিনি বলেন, সরকার ও হাবের যৌথ প্রচেষ্টায় অধিকাংশ হারানো লাগেজ উদ্ধার করে হাজীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ছোটখাটো কিছু সমস্যা এখনও আছে, তবে দ্রুত সমাধান হবে।

হাব মহাসচিব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হজ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তিনি নিজে খোঁজখবর নিয়েছেন হাজীরা কোনো কষ্ট পাচ্ছেন কি না।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হজ ক্যাম্পে এক লাখ বোতল পানি সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া হাজীদের লাগেজ সুরক্ষার জন্য দুটি র‌্যাপিং মেশিন দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বিনামূল্যে লাগেজ মোড়ানোর সুবিধা পান।

ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে হজ ক্যাম্পে মশামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি হজকর্মীদের খাবার, উপহার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ধর্মমন্ত্রীর তদারকির কারণে এবার বাংলাদেশি হাজীরা অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও উন্নত সেবা নিয়ে সৌদি আরবে এসেছেন। এজন্য আরাফাতের ময়দানে প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD