উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বিরাজমান বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বেড়েছে। ফলে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পুনরায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
বুধ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার দেশের যে কোনো অঞ্চলেও ভারী বর্ষণ হতে পারে।
শুক্রবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
শনিবারও দেশের প্রায় সব বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। ওই দিনও কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দিনের তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা হলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।