ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলার প্রাথমিক জবাব হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। আজ বুধবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানি বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যৌথ এই অভিযানে বাহরাইনের পোর্ট সালমান ও মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন মোহাম্মদি জানিয়েছেন, আজ ভোরের দিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে ড্রোনটি আঘাত হেনে ভূপাতিত করে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশ এবং মাহশাহরের বেশ কিছু উপকূলীয় ঘাঁটি ও বেসামরিক স্টেশনে মার্কিন বাহিনী নতুন করে বিমান হামলা চালানোর পরই এই পাল্টা আঘাত করা হলো। এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’র পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই আমেরিকা এই আগ্রাসন চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের আকস্মিক হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। সোমবার রাজধানী তেহরান ও মঙ্গলবার কোম নগরীতে তার বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আজ বুধবার ইরাকের পবিত্র নাজাফ ও কারবালা শহরে বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদ নগরীতে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি