বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের ‘ডান হাত’ কে এই নাটালি হার্প

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন নাটালি হার্প। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই সহযোগীকে প্রেসিডেন্টের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট টাইপ করা থেকে শুরু করে তার কাছে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পের প্রভাব ও উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী হার্প নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বক্তব্যের পর। ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে অসফ তার সঙ্গে হার্পের ভ্রমণের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি ট্রাম্পের ‘কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া উড়ন্ত প্রাসাদে’ হার্পকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের কথা উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং গত মাসে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের সময় হার্পের উপস্থিতির প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে হার্পের উপস্থিতি প্রায় সার্বক্ষণিক। ওভাল অফিসে ট্রাম্পের কয়েক ফুট দূরে কিংবা প্রেসিডেন্টের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় প্রায়ই তাকে দেখা যায়।

হার্পের হোয়াইট হাউসে আসার পথটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা হার্প হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ পান।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের আওতায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন হার্প। প্রচলিত কেমোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর এই চিকিৎসা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হার্প ট্রাম্পকে তার জীবন রক্ষার কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ না পেলে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই তার মৃত্যু হতে পারত। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বক্তব্যের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই হার্পের প্রশংসা করেন এবং তাকে টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষভাবে নজরকাড়া একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এরপর ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন হার্প। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডেও যুক্ত হন তিনি।

ট্রাম্পের পরাজয়ের পরও ছাড়েননি সঙ্গ

২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) উপস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন, এমন মিথ্যা দাবিরও প্রচার করেন।

২০২২ সালে ওএএন ছেড়ে আবার ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে ফিরে আসেন হার্প। এরপর ট্রাম্পের পরবর্তী নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে তার আস্থাভাজনদের তালিকায় জায়গা করে নেন।

হার্প কতটা প্রভাবশালী?

হোয়াইট হাউসে হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট’। সাধারণত এ পদে সময়সূচি, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনে হার্পের ভূমিকা তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের লোকজন ও সাংবাদিকদের অনেকে হার্পকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে ডাকেন। ট্রাম্প সংবাদ, নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের কাগজের কপি পড়তে পছন্দ করেন। তাই প্রায়ই একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের পাশে দেখা যায় হার্পকে।

হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের কাছে কোন তথ্য বা আপডেট পৌঁছাবে, সে ক্ষেত্রে হার্পের ‘অস্বাভাবিক প্রভাব’ রয়েছে। এ কারণেই তাকে অনেকে ‘গেটকিপার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের হয়ে পোস্ট লেখেন

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বক্তব্য টাইপ করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি বক্তব্য দেখার সময় ট্রাম্পের পাশে বসে হার্পকে তার হয়ে পোস্ট টাইপ করতে দেখা যায়। ওই ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো প্রেসিডেন্টের সফরেও তার উপস্থিতি। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রার সময়ও হার্প তার সঙ্গে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

কেন এতটা কাছের?

ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের বর্ণনা এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্পের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে হ্যাবারম্যানের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি হার্পকে ট্রাম্পের ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প কেন তাকে গোপন বিমানযাত্রায় সঙ্গে নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্পও বলেছেন, তার বোন ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড় ভক্ত’। ছোটবেলা থেকেই হোয়াইট হাউসে কাজ করার স্বপ্ন ছিল হার্পের। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ কয়েকজন প্রেসিডেন্টকে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউস অবশ্য হার্পকে প্রেসিডেন্টের ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD