সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

পূজার আগেই হামলা করতে পারে পাকিস্তান, শঙ্কায় ভারত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ২৯ আগস্ট ইসলামাবাদের কাছে দেশটির বৃহত্তম অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভারী কামান মোতায়েন করা হয়েছে। একের পর এক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করছে ইসলামাবাদ। চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি হয়েছে । ডিজিটালম্যাপ দেখুন

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভারতে। পূজার আগেই ফের ভারত আক্রমণ করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, এই প্রশ্নেরই জবাব খুঁজছেন দিল্লির গোয়েন্দাদের একাংশ। তবে পাকিস্তান শিগগিরই ভারতের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

আসিম মুনির ওয়াহ সেনানিবাসে অবস্থিত পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ বা পিওএফ পরিদর্শন করার পরে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতেই তিনি কারখানাটি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় মুনির বিভিন্ন অস্ত্রের নকশা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং গোলাবারুদের পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। কারখানার কর্মকর্তারা তাকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানান। চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয়ভাবে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সেনাপ্রধানের সরাসরি কারখানা পরিদর্শনকে শুধু শিল্প সক্ষমতা পর্যালোচনার ঘটনা হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর কৌশলগত গুরুত্বও বিবেচনা করা দরকার।

এরই মধ্যে পাকিস্তান সামরিক ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ২৭ আগস্ট কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি’ হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে।

চীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থলভিত্তিক অস্ত্রের বড় একটি অংশ চীনা প্রযুক্তি বা সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তুরস্কের সঙ্গেও ইসলামাবাদের সামরিক সহযোগিতা কয়েক বছর ধরে বাড়ছে।

এদিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে চীন ও তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের চলাচল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিমানের মাধ্যমে কী ধরনের সরঞ্জাম পাকিস্তানে এসেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা অনুমান থাকলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

পাকিস্তান সীমান্তেও সামরিক তৎপরতা নিয়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে। চীনে তৈরি এসএইচ-১৫ ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর একটি। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কামান মোতায়েনের খবর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ই-পেপারসাবস্ক্রাইব করুন

তবে পাকিস্তানের এসব সামরিক প্রস্তুতির প্রধান লক্ষ্য ভারত কি না, তা নিশ্চিত নয়। পাকিস্তান একই সময়ে আফগানিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

অন্যদিকে গত বছরের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হয়। ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। কয়েক দিনের সংঘাতের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

ওই সংঘাতের পর ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। ফলে নতুন করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিজিটালম্যাপ দেখুন

তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও দেশটির সামরিক নীতিতে প্রভাব ফেলছে। অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের চাপ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সমস্যা সামাল দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনাও বেড়েছে।

এ অবস্থায় আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। তবে এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যাখ্যা করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাদের সামরিক তৎপরতার ওপর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD