বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন

ইরানের পাঁচ তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র, জবাবে জর্ডানে হামলা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ইরান দুবার লক্ষ্য করার পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। আরেকটি জাহাজে হামলা হয়েছে ইরানের উপকূলের কাছে খার্গ দ্বীপের কাছে।

মার্কিন বাহিনী হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয় বলে সেন্টকম জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব জাহাজ আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের অর্থায়নে ব্যবহৃত কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি গোপন নেটওয়ার্কের অংশ।

এরপর ইরান জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর দাবি করেছে, তারা জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ব্যবহৃত কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকেও হুঁশিয়ার করেছে। এসব জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদোল্লাহি আগেই হুঁশিয়ার করেছিলেন, ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানকে হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিবার এর জবাবে ইরানের তেলবাহী জাহাজ হারাবে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে।

ইরানের তেল রপ্তানির জন্য খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে রপ্তানি হতো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD