শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডিআর কঙ্গোতে নৌকাডুবি, নিহত ৪১ বিশ্বশান্তি ও মানবতার পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সরকারি চাকরিতে টানা ৭ দিনের ছুটির বিশেষ সুযোগ জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েই ‘ভয়ে’ নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু ঢাকার কারাগারে ২৪ দিনে ১০ বন্দির মৃত্যু ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ বাবা-মায়ের পর সন্তান, জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, এর বিকল্পও কল্পনা করা যায় না: খলিলুর রহমান জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই ওয়াকআউট বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় সরকার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সতর্কভাবে আশাবাদী সরকার। তবে কবে নাগাদ এই খুনিকে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।

কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়া জটিল। ফলে খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা যাবে কিনা তা বলা মুশকিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকো ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার অভিবাসন বোর্ডকে রাশেদ চৌধুরীর মামলার নথি রিভিউ করার জন্য তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এমন নির্দেশের পর রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই আইনি প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না।

রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় পর্যালোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের নথি তলবের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এমন অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে বলে সূত্র আশা প্রকাশ করেছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এর ফলে পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিষয়টা আইনি প্রক্রিয়াধীন। ফলে কবে নাগাদ রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা যাবে সেটা বলা কঠিন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এ ধরনের আসামিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নজির আছে।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান টেলিফোনে বলেন, ‘রাশেদ চৌধুরী মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছে। সে একজন দুষ্কৃতকারী, খুনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তার রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। আশা করছি আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে খুনিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় রাশেদ চৌধুরীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে আদালত।

এ কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। আগের সরকারের আমলে রাশেদ চৌধুরী ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার রাশেদকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিলে তিনি দেশে না ফিরে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান।

ভিজিট ভিসার মাধ্যমে গিয়ে তারা দুই মাসের মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের জট থাকায় তার আবেদন মঞ্জুর হতে ১০ বছর সময় লেগে যায়।

ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যুক্তি দেখায় যে, সেনা অভ্যুত্থানে অংশ নেয়ায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য নন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২০০৬ সালে চূড়ান্ত অর্থে রাজনৈতিক আশ্রয় বিবেচনা করেন। ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার মামলাটি রিভিউ করার জন্য নথি তলব করায় তাকে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

লাইটনিউজ/এসআই

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD