বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরে (ওএইচসিএইচআর) প্রথম মিশনপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবিনে ম্যাগডালেনা লাউবার।
রোববার (৮ নভেম্বর) তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নতুন মিশনপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ওএইচসিএইচআরের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘের বিশেষ পদ্ধতির আওতাধীন ম্যান্ডেটধারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক বিশেষ দূত এবং শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ দূতের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওএইচসিএইচআরের মিশনকে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি ও কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে সাবিনে লাউবারকে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন তিনি।
জবাবে সাবিনে লাউবার সরকারের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
এসময় দায়িত্ব পালনকালে নিজের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পিত কার্যক্রম তুলে ধরেন নতুন মিশনপ্রধান। বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর আওতায় বাংলাদেশে ওএইচসিএইচআরের মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। সাবিনে লাউবার এই মিশনের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।