কখনো পেঁয়াজ-আলু, কখনো কাঁচা মরিচ কিংবা চালের দোকান। আবার কখনো উত্তরার সরু অলিগলি ও আবাসিক এলাকার নানা দৃশ্য। ক্যামেরা নয়, হাতে স্মার্টফোন—আর তা দিয়েই দিনের পর দিন ভিডিও ধারণ করছেন কয়েকজন চীনা নাগরিক। তাদের দাবি, চীনা দর্শকদের জন্য কনটেন্ট তৈরি ও পণ্যের প্রচারই এসব ভিডিওর উদ্দেশ্য। তবে তিন-চার মাস ধরে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও অস্বস্তি।
প্রথম দেখায় বিষয়টিকে সাধারণ ভিডিও ধারণ বলে মনে হলেও নিয়মিত এ ধরনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেন এসব ভিডিও করা হচ্ছে, কোথায় প্রকাশ করা হচ্ছে এবং এর উদ্দেশ্যই বা কী—তা জানতে চাইছেন অনেকে।
স্থানীয় মুদি দোকানিদের অভিযোগ, কয়েকজন চীনা নাগরিক প্রায়ই তাদের দোকানে আসেন। পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ ও চালসহ বিভিন্ন পণ্য দেখেন এবং সেগুলোর ভিডিও ধারণ করেন। তবে কিছু না কিনেই চলে যান।
এক দোকানি বলেন, ‘তারা আসে, দেখে, কিন্তু কিছু কেনে না। পেঁয়াজ দেখে, আলু দেখে, কাঁচা মরিচ দেখে, চাল দেখে মোবাইল ফোনে এগুলোর ভিডিও করে। সবসময় এভাবে বিরক্ত করে।’
বিষয়টি জানতে কয়েকজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে মোবাইল ফোনের অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের কাছে ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্য জানতে চাওয়া হয়।
এ সময় একজন চীনা নাগরিক জানান, এসব ভিডিও মূলত চীনা দর্শকদের জন্য তৈরি করা হয়। অন্য একজন অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে জানান, চীনা পণ্যের প্রচারের উদ্দেশ্যেই তারা এ ধরনের ভিডিও তৈরি করেন।
তাদের কয়েকজনের ভাষ্য, ভিডিওগুলো চীনভিত্তিক উইচ্যাট, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। এসব ভিডিও থেকে তারা আয়ও করেন।
চীনা নাগরিকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মূলত ঢাকার নিম্নআয়ের মানুষের বসবাসের এলাকাগুলো। এ কারণেই উত্তরার কিছু এলাকা বেছে নিয়েছেন বলে জানান তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উত্তরার টেকপাড়া এলাকায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চীনা নাগরিক বসবাস করছেন। তাদের ভাষ্য, আগে এ এলাকায় চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়েছে।
কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালে একাধিক চীনা নাগরিক একসঙ্গে উপস্থিত হন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়।
এক বাসিন্দা বলেন, ‘ওদের ভাষা আমরা বুঝি না। কী বলে, না বলে, তা-ও বুঝতে পারি না। ওরা কেন টেকপাড়া রোডে বেশি আসছে, সেটাও জানি না।’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত তিন থেকে চার মাস ধরে এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন এসব চীনা নাগরিক। এতে অনেক দোকানি ও বাসিন্দা বিরক্ত হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় চীনা নাগরিকদের ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ভিডিওর উদ্দেশ্য কনটেন্ট তৈরি ও চীনা পণ্যের প্রচার। তবে ভিডিও ধারণের পরিধি, প্রকাশের ধরন এবং স্থানীয়দের সম্মতি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।