বর্তমানে হার্টঅ্যাটাক একটা সাধারণ রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। ধমনিপথ রুদ্ধ হলে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির জন্য নানা সমস্যা হতে পারে।
৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫৫ বা তার বেশি বয়সের নারীরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন।
হার্টঅ্যাটাক কেন হয়?
করোনারি ধমনি রোগ হলো হার্টঅ্যাটাকের প্রধান কারণ। রক্তে অনেক দিন ধরে যদি উঁচুমানের কোলস্টেরল থাকে, তা হলে ধমনির দেয়ালে কোলস্টেরল জমা হতে হতে কোলেস্টরল পুঞ্জ হতে থাকে।
কোলস্টেরল মান নিয়ন্ত্রণের আছে উপায়, খাদ্যের ধরন পাল্টানো, ব্যায়াম করা আর ওষুধ।
রোগটি ঘটাতে পারে এনজাইনা– হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে বুকে ব্যথা হয় একে বলে এনজাইনা। রোগটির গুরুতর পরিণতি হলো হার্টঅ্যাটাক। ধমনি হঠাৎ রুদ্ধ হলে এমন হতে পারে।
হৃদরোগ নিয়ে আমাদের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে। আসুন জেনে নিই এমন কিছু বিষয়-
১. শরীর হালকা-পাতলা হলে করোনারি হৃদরোগ হবে না। অনেকে তা মনে করেন। যাদের ওজন বেশি নয়, এদের যেমন উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, পারিবারিক ইতিহাস থাকলে করোনারি হৃদরোগ হতে পারে।
২. হৃদরোগ হবে কেন আমার? আমি তরুণ, বয়স কম। কোলস্টেরল পুঞ্জ ধমনির দেয়ালে গঠিত হতে থাকে শৈশব থেকেই, কোলস্টেরল মানে অসঙ্গতি, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও পারিবারিক ইতিহাস থাকলে তারুণ্যেও হতে পারে হৃদরোগ।
৩. নারীদের করোনারি ধমনি রোগ কম হয়। রজঃনিবৃত্তির পর নারীর ঝুঁকি পুরুষের কাছাকাছি হয়ে যায়। বরং ৬০ ঊর্ধ্ব নারীদের পুরুষের চেয়ে হৃদরোগে ও স্ট্রোকে মৃত্যু বেশিই হয়। দুর্ভাগ্যবশত যেসব নারীর হার্টঅ্যাটাক হয় তাদের অবস্থা পুরুষের চেয়েও বেশি শোচনীয়।
প্রতিরোধে করণীয়
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে আপনি সুস্থ থাকবেন। ধূমপান, মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে এবং অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমাতে হবে।
এ ছাড়া বিষণ্ণতা বা স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন। আর স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ করান।
লাইটনিউজ