সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন হবে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করার পর আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ ফজলে এলাহী।
এদিকে একই ঘটনায় করা পৃথক আরেকটি রিট আবেদনের ওপর বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়নি। এই রিট আবেদনে পক্ষভূক্ত হতে আবেদন করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম।
পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সিলেটের শাহপরান থানার বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ ফজলে এলাহী। এ রিট আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তের অগ্রগতি জানায়।
গত ১১ অক্টোবর বিকেলে সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমেদের(৩৫) মরদেহ পাওয়া যায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। তারা রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে ওইদিনই সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছে রায়হান।
রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তা তদন্তের জন্য সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আলম মামুনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পুলিশী নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ ৪ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরইমধ্যে মূল অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভুইয়া পালিয়ে গেছেন।
পরিবারের দাবি, গত ১০ অক্টোবর রাতে রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ফোনে পরিবারের সদস্যদের টাকা নিয়ে আসতে বলেন রায়হান। গত ১১ অক্টোবর সকালে ৫ হাজার টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে যেয়ে তারা জানতে পারেন, রায়হান মারা গেছেন।
লাইটনিউজ