শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সিলেটে হেফাজতে মৃত্যু: এসআই আকবর ৭ দিনের রিমান্ডে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

সিলেট ব্যুরো : সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে আকবরের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন বলেন, রায়হান হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য পিবিআই আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। সেই সঙ্গে তাঁর সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইবে পিবিআই।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আওলাদ হোসেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আবুল কাশেমের আদালতে আকবরকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আকবরের পক্ষে দাঁড়াতে চাননি জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ‘আমরা আশা করছি পিবিআইয়ের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত হবে এবং এসআই আকবরের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এ ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন তা প্রকাশ পাবে।’

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আকবরকে গতকাল আদালতে হাজির করে পিবিআই। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিল। তারা আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে স্লোগানও

দেয়। মানুষের ঢল সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ-প্রশাসনকে।

এর আগের দিন সোমবার সকালে জেলার কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশের বরখাস্ত এই এসআইকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় সীমান্তের ওপারে খাসিয়ারা তাঁকে আটক করে এপারে পাঠায়। ওই দিন রাতেই পুলিশ আকবরকে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে।

আলোচিত এই মামলায় এ পর্যন্ত চার পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে আছেন। এর মধ্যে তিনজনকে বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়েও কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।

গত ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে নগরের কাষ্টঘর থেকে রায়হান আহমদকে ধরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে মারা যান তিনি। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতনের কারণে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর পলাতক ছিলেন। রায়হানের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে ফরেনসিক রিপোর্টে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD