বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঢাকার যে সব এলাকায় ডেঙ্গির ঝুঁকি বেশি

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মগবাজার, নিউ ইস্কাটন, বাসাবো ও গোড়ানসহ ৫৬ এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মৌসুম এডিস জরিপ ২০২১-এর ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডের ১০০টি স্থানে জরিপ চালানো হয়।

জরিপে শতকরা ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বাড়িতে মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪১টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৯টি স্থানে ২৯ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জরিপকালে এসব এলাকার তিন হাজার বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। কোনো এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব পরিমাপের একক ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলেই সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বলা যায়।

জরিপের তথ্যানুযায়ী-গত বছরের চেয়ে এ বছর মশার উপস্থিতি বেশি। এ বছর ডিএসসিসির ৩০টি এবং ডিএনসিসির ২৬টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি পাওয়া গেছে। আর ২০২০ সালের জরিপে ডিএসসিসির ১৭টি এবং ডিএনসিসির ৯টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি পাওয়া গিয়েছিল। এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডের ১৯টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ৪০-এর বেশি পাওয়া গেছে। গত বছর দুই সিটি করপোরেশনের ৫৬টি এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ছিল ২০ বা তার বেশি।

জরিপে জানানো হয়, ডিএনসিসির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের মগবাজার ও নিউ ইস্কাটন এলাকায় সর্বোচ্চ ব্রুটো ইনডেক্স ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জ এলাকায় ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ, দারুস সালাম ও কল্যাণপুর এলাকায় ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, মহাখালী ও নিকেতন এলাকায় ৪০ দশমিক শূন্য শতাংশ ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে। ৫৮৮টি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দুই হাজার ৪১২টি বাড়ি ও স্থাপনায় কোনো এডিস মশা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ মোট পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

জরিপের তথ্যানুযায়ী-ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবো ও গোড়ান এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ৭৩ দশমিক ৩। এ ছাড়া ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ৬৬ দশমিক ৭, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে আরকে মিশন রোড ও টিকাটুলিতে ৫০, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বনশ্রীতে ৪০ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিন্টো রোড ও বেইলি রোডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ।

ডিএনসিসির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া গেছে। এ ওয়ার্ডে রয়েছে-মগবাজার, নিউ ইস্কাটন এলাকা। এ ছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জ নিয়ে গড়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রুটো ইনডেক্স ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণপুর ও দারুস সালাম এলাকায় ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ায় ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মহাখালী ও নিকেতন এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ। ডিএনসিসির আফতাবনগর ও মেরুল বাড্ডা এবং ডিএসসিসির বংশালের ব্রুটো ইনডেক্স শূন্য। অর্থাৎ এসব এলাকায় মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অনলাইনে আয়োজিত জরিপ প্রকাশের ফলাফল অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে মৌসুম এডিস সার্ভের রিপোর্ট উপস্থাপনা করেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আফসানা আলমগীর খান। সূত্র : যুগান্তর।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD