রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও দেখতে ইউটিউবে নতুন ফিচার ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভ, সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার ১ হাজার ৩০০ রিয়াদ-দাম্মাম রুটে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট স্থগিত উচ্চকক্ষে অর্ধেক আসন ভোটের অনুপাতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব মক্কার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র, সৌদি আরবের দাবি ‘হুথিদের হামলা’ ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন ডেঙ্গুতে আরো ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২৪৯ শেখ হাসিনার ফেরার গুঞ্জন, সরকারের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান মেনে নির্বাচন হলে সরকার হলেন কীভাবে, বিএনপিকে শফিকুর রহমান বন্দর আব্বাসে ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

শাহজালাল মাজারে মিলল ‘খোকন মামু’র জন্য চিরকুট

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খুলে চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খোলা হয়। এবার সেগুলো থেকে প্রায় চার বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে মোট কত টাকা পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।তবে আলোচিত বিষয় হলো, ডেকচির ভেতরে ‘খোকন মামুর’ জন্য লেখা চিরকুট পাওয়া গেছে।

টাকা গণনার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

মাজারের ডেকচিতে পাওয়া খোকন মামুর জন্য লেখা চিরকুটে লেখকের নাম-ঠিকানা উল্লেখ নেই। এতে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’ এরপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের ‘অন্তরের মায়ার মানুষ’ হিসেবে খোকন মামুর কথা লেখা হয়েছে। চিরকুটে একটি হৃদয়ের ছবি এঁকে সেখানে ‘ইউ’র সঙ্গে ‘মামুজি’ শব্দটিও লেখা হয়েছে।

চিরকুটটি ঘিরে মাজারে আলোচনা হলেও এখনো খোকন মামুর পরিচয় জানা যায়নি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা চলছে।

টাকা গণনায় উপস্থিত রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সিসিকের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মী, সচেতন সিলেটবাসী ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও সরেজমিনে টাকা গণনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দানবাক্স খোলার আগে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতেই অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো মাজারের দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ, ১৬ ভরি ২ আনা রুপা এবং অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া যায়।

এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। স্বর্ণের পাশাপাশি স্বর্ণসদৃশ বস্তু ও রুপার সামগ্রীও পাওয়া গিয়েছিল।

গত ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

তিন দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এর বাইরে প্রতিবারই পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী।

প্রায় এক মাস চার দিন পর শনিবার চতুর্থবারের মতো দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খোলা হয়েছে। এবার পাওয়া প্রায় চার বস্তা টাকা গণনা চলছে। গণনা শেষে নগদ অর্থের পাশাপাশি অন্যান্য সামগ্রীর পরিমাণও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী কালবেলাকে বলেন, সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগের মতো একই পদ্ধতিতে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। গণনা করা অর্থ জেলা প্রশাসকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

অর্থ বণ্টনে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নীতিমালা ও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

মাজারে আগত ভক্ত ও পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD