রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও দেখতে ইউটিউবে নতুন ফিচার ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভ, সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার ১ হাজার ৩০০ রিয়াদ-দাম্মাম রুটে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট স্থগিত উচ্চকক্ষে অর্ধেক আসন ভোটের অনুপাতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব মক্কার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র, সৌদি আরবের দাবি ‘হুথিদের হামলা’ ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন ডেঙ্গুতে আরো ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২৪৯ শেখ হাসিনার ফেরার গুঞ্জন, সরকারের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান মেনে নির্বাচন হলে সরকার হলেন কীভাবে, বিএনপিকে শফিকুর রহমান বন্দর আব্বাসে ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

উচ্চকক্ষে অর্ধেক আসন ভোটের অনুপাতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে অর্ধেক সদস্য ভোটের অনুপাতে এবং বাকি অর্ধেক সংসদীয় আসনের অনুপাতে নির্বাচনের প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে।

একই সঙ্গে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাড়ে ছয় ঘণ্টার বৈঠকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষক উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন।

বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, তার প্রস্তাবে অনেকে সমর্থন জানান।

প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হতে পারে ১০৫। এর মধ্যে ৫০ জন নির্বাচিত হবেন সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০ জন নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি পাঁচজনকে মনোনয়ন দেবেন রাষ্ট্রপতি। প্রস্তাবদাতার মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষাবিদও প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য উল্লেখ করেন। তিনি উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে। উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

একই সঙ্গে সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব দেন ওই শিক্ষাবিদ। তার মতে, এতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও অন্তত একটি নির্বাচিত সংসদ সব সময় বহাল থাকবে।

শনিবারের বৈঠকে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা অংশ নেন। কমিটির পক্ষ থেকে ৬০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৪৪ জন।

সরকারি দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কাঠামো, প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় কেউ কেউ প্রস্তাব করেছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সরকার ও বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে।

এ ধরনের প্রস্তাব বিবেচনার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্পিকার ছাড়া অন্য উপদেষ্টাদের সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা যেতে পারে বলে অনেকে মতামত দিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে বৈঠকের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। আরও প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়গুলো কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর মধ্যে শনিবারের আলোচনা সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বৈঠকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক, আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচারিক পর্যালোচনা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আলোচকরা মতামত দেন। বিভিন্ন দেশের বিচার বিভাগের এখতিয়ারসংক্রান্ত উদাহরণও তুলে ধরা হয় বলে জানান কমিটির সভাপতি।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করার উপায়, বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থা ভোট ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD