বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

আন্ত:সীমান্ত মাদক-সন্ত্রাস ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পাকিস্তানের মাদক সিন্ডিকেটগুলো জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। যারা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে ভারতে হেরোইন পাচার করছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে এ চক্রটি।

গত ১৭ জুলাই ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি শ্রীনগরের হান্দওয়ারা থেকে আফাক আহমেদ ওয়ানি নামের একজন ব্যাংক ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি ২১ কেজি হেরোইন ও নগদ টাকাসহ মাদক চোরাচালান চক্রের যেসব সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে আফাকের সঙ্গে তাদের সংযোগ থাকতে পারে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি সত্যি ভয়ংকর হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দিন দিন বড়েই চলেছে মাদক-সন্ত্রাস। শেষ কয়েকবছর ধরে মাদক চোরাচালানের রুট তারা বিস্তৃত করে ফেলেছে সড়ক থেকে সাগর পর্যন্ত।’

শুধুমাত্র ভারতের গোয়েন্দাদের হাতেই এমন তথ্য আছে তা নয়। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপেও মাদক চোরাচালানের অভিযোগে পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মার্চে দুটি বিদেশি জাহাজ থেকে ৪০০ কেজি হেরোইনসহ পাকিস্তানের ৮ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে শ্রীলঙ্কান নেভি।

শ্রীলঙ্কান নেভি এবং মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স ২০১৯ সালের মার্চ থেকে বহু পাকিস্তানি নাগরিককে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালের মে মাসে গুজরাট উপকূলের কাছ থেকে পাকিস্তানের ফিশিং বোট আল মদিনা থেকে ২১৮ কেজি হেরোইনসহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড।

ভারতীয় গোয়ান্দা সংস্থাগুলো বলছে, আফগানিস্তানের আফিম ফয়সালাবাদ বা লাহোর থেকে প্রক্রিয়াজাতের পর করচি বা গোয়াদর বন্দর হয়ে ভারতে পাচার করা হয়। মাদক চোরাচালানের অর্থ আর্থিক সহায়তা হিসেবে চলে যায় লস্কর-ই-তৈয়্যবা বা এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর পকেটে।

সম্প্রতি হান্দওয়ারায় হেরোইন জব্দের ঘটনা তদন্ত করে মূল অভিযুক্ত যে লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) দিয়ে মাদকের বড় চালান আনার পর এসব বিক্রির অর্থ উপত্যকায় লস্কর-ই-তৈয়্যেবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কাজে অর্থায়ন করে এর প্রমাণ মিলেছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আন্তঃসীমান্ত মাদক-সন্ত্রাস ভারতের জন্য ক্রমেই মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে উঠছে। তাই জম্মু ও কাশ্মীরকে স্থিতিশীল রাখতে আন্তঃসীমান্ত মাদক-সন্ত্রাসের এ বিষবৃক্ষ অঙ্কুরেই সমূলে উৎপাটন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সূত্র : দ্য উইক।

লাইটনিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD