বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : আজ থেকে প্রায় দু‘বছর আগে হত্যা করা হয়েছিলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ২৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার ২২ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন আর বাকি তিনজন এখনও পলাতক।

এ মামলার ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রোববার (২৮ নভেম্বর) এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বেলা ১২টায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করবেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তারপরের দিন ৭ অক্টোবর বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রের( আবরার ফাহাদ)লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। ওই দিনই ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর এই মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামীরা র‍্যাগিংয়ের নামে বুয়েটে আতঙ্ক বা একটা ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তার ধারাবাহিকতাতেই একাধিক কারণে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। এর তথ্য-প্রমাণ তারা তদন্তে পেয়েছেন।

তদন্তে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

এ মামলার তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোর্শেদ অমত্য ইসলাম নামে পলাতক এক আসামি পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

আসামীদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ৩০২ ধারায় নরহত্যা, ৩০২ এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী হত্যার পূর্ব-পরিকল্পনা এবং ১০৯ ও১১৪ ধারায় হত্যায় অংশগ্রহণের অভিযোগ গঠন করা হয়।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় মোট ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

অবশেষে আজ বেলা ১২ টায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আছেন মোশাররফ হোসেন কাজল, আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া, আবদুস সোবহান তরফদার, প্রশান্ত কুমার কর্মকার, মিজানুর রহমান, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান।

আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মাহাবুব আহমেদ, আমিনুল গণী, গাজী জিল্লুর রহমান, আজিজুর রহমান, ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

অভিযোগপত্রভুক্ত ২২ আসামি হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. আকাশ হোসেন, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুয়াজ আবু হুরায়রা, মুনতাসির আল জেমি, অমিত সাহা, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, মো. শামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মিজানুর রহমান ও এস এম মাহমুদ সেতু।

এছাড়া পলাতক আসামিরা হলেন- মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

আবরার হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, মামলায় ২৫ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন তারা। হত্যার অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৬০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। ১৪ নভেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ রোববার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করেই মূলত আবরার ফাহাদ তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছিলেন। আর সেই কারণেই তাকে বুয়েট শাখার ছাত্র লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হত্যা করেছিলো বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‍উঠে আসে। নিহত আবরার শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে ওই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ এবং পরে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ওইদন রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের দোতলার সিঁড়ির করিডোরে মিলে আবরারের জখমে ভরা মরদেহ। আর এই ঘটনার নির্মমতা আর সিসিটিভির ফুটেজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে সারাদেশে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের ঝড় বয়ে আসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বরিশাল, বগুড়া, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, যশোর, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি, আল জাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ভয়েস অব আমেরিকা, গার্ডিয়ান, দ্য হিন্দু, গালফ নিউজ, দ্য ন্যাশনাল, এবিসি নিউজ এর মত স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই নিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়। বেশীরভাগ সংবাদে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির সমালোচনার জন্য হত্যা করায় ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়।

আবরার ফাহাদ ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। তার পিতার নাম মো. বরকত উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন। তিনি কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি নটর ডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। ৩১ মার্চ, ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন।

তার বাবা বরকতউল্লাহ ব্র্যাকে অডিটর এবং মা রোকেয়া খাতুন কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক ছিলেন। আবরার দুই ভাইয়ের বড় ছিল, তার ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এইচএসসি ছাত্র ছিল। ফায়াজ শের-ই-বাংলা হলের নিকটবর্তী ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাসে থাকতেন।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD