ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ওই ইউরেনিয়ামের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে যুক্তরাষ্ট্র।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেউ সেখানে গেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারব।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান যেন ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেয় এবং পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থেকে তারা সরে আসবে না।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচেই এখনো ইউরেনিয়াম মজুদ থাকতে পারে। যদিও এর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইরান।
গত মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে সেই দাবি নাকচ করে দেয় তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি অন্য কোথাও সরানো হবে না।’
বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজির বেশি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রায় ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় পরিশোধন করা হলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
২০১৫ সালে, ইরান একটি বহুপাক্ষিক চুক্তিতে সম্মত হয়, যার অধীনে দেশটির অর্থনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে তেহরান কঠোর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত বলে জানানোর এক দিনের মাথায় ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।