সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে আজীবন ভিসা সুবিধা ঘোষণা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

দেশের অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতে গতি আনতে প্রায় দুই দশক পর নীতিমালা সংস্কার করে নতুন ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’ এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার। আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের ভারী শিল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অন্তত ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করলে তিনি এবং তার পরিবার আজীবনের জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর)’ সুবিধা পাবেন। এছাড়া বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু থাকবে, যা ধারাবাহিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

নতুন নীতিমালায় অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হলে অবস্থানকালে প্রতিদিন ধাপে ধাপে জরিমানা বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে—প্রথম ১৫ দিন ১ হাজার টাকা, পরবর্তী ৯০ দিন ২ হাজার টাকা এবং এরপর ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্পন্সর বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেও অর্থদণ্ডের আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিয়ে আসা ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং তাদের তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত এনভিআর সুবিধা পাবেন। এজন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ ডলার। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণের পর ৯০ দিন পর্যন্ত জরিমানা ছাড়াই অবস্থানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন খসড়ায় ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে ই-ভিসা চালুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা খাতকে কেন্দ্র করে প্রথমবারের মতো ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’ ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদেশি রোগীরা তিন মাসের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাবেন। রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন সহকারীও ভিসার আওতায় থাকবেন।

নতুন নীতিমালা প্রণয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই সংস্কার আনা হচ্ছে। এটি বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে।

খসড়াটি সংশ্লিষ্ট ২১টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD