ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বিপুলসংখ্যক প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। জর্ডানে ইরানের প্রায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ঠেকাতে ৬০ থেকে ৭০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং এক ডজনের বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এক হামলায় ব্যবহৃত এই বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর অন্য সময়ের পুরো এক সপ্তাহের ব্যবহারের কাছাকাছি। ইরান এবার এমন কিছু ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে, যেগুলো লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি গিয়ে একাধিক অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। এতে সেগুলোকে আকাশে ধ্বংস করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারেনি। ইরানের হামলায় জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে ইরানের হামলা ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ভিন্ন গতিপথ, কৌশল ও ওয়ারহেড ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার চেষ্টা করছে তেহরান।
মধ্য জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ হাজার ৭০০টি প্যাট্রিয়ট ও ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পত্রিকাটি। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে প্রায় ১৫০টি স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল ব্যবহার করেছে।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার শেষ হয়ে যাওয়ার খবর ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে কৌশলগত মজুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং নতুন অস্ত্র সরবরাহে শিল্পভিত্তিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর নির্মাতা লকহিড মার্টিন ২০২৫ সালে ৬২০টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ২ হাজার ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লক্ষ্যে সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি