মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ কেশমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

গভীর রাতে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে তিনি আশাবাদী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাগুলোকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলোকে পূর্ণমাত্রায় আবারও যুদ্ধ শুরু করার কোনো ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবারের এই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং তার ধারাবাহিক প্রভাব।

সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করেছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

গতকাল স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে আনাদোলু জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিস্ফোরণের খবর এলো।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD