শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন জামায়াত আমির মরক্কোর হারে লন্ডনে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষ ইরান নীতিতে কোণঠাসা ট্রাম্প, হাতে নেই কোনো বিকল্প ইরানে হামলার পর ফের উত্তেজনা হ্রাসের চেষ্টা ট্রাম্পের ইসরাইলকে কড়া বার্তা ‘সম্ভাব্য’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা টানা বর্ষণের পূর্বাভাস, ১৪ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা ২২ বছর পর গৌরনদী আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘এখনো শেষ হয়নি’: নেতানিয়াহু গণহত্যার কুশীলব ৮০ পুলিশ কর্মকর্তার বিদায় চূড়ান্ত

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি কয়েক দিন ধরেই ওঠানামা করছে। গত কয়েক দিনে পানি কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবার আবারও বাড়তে শুরু করেছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ৯টার মধ্যে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। এতে তিস্তা ব্যারাজের ভাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়াসহ শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। এই পয়েন্টে পানির বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার, যা বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানের এ ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কয়েক দিন ধরে পানি প্রবাহ ওঠানামা করলেও বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে ভারি বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বুধবার তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং শত শত পরিবার পানিবন্দি হতে পাড়ে।

ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানির চাপ বেড়ে গেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীর তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে এগুলোতে জরুরি মেরামত শুরু করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হতো, তেমনি নদী ভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকেও রক্ষা পাওয়া যেত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভারি বৃষ্টি আর উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি বেড়েছে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ বেড়েছে। তাই হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হতে পারে। উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করে পানির চাপ কমবেশি হতে পারে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD