রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে সৌদি আরব? সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব তারেক রহমানকে দিলো বিএনপি এবার গ্রীসের রাজধানী এথেন্সেও ভয়াবহ দাবানল! ড. ইউনূস নির্বাচন চাননি, আদায় করে নেয়া হয়েছে: রাশেদ খাঁন জুলাই আন্দোলনে গণতন্ত্রকামী সবার অবদান রয়েছে : আতিকুর রহমান রুমন আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী: মাহদী আমিন ইরান যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের পথ খুঁজছেন ট্রাম্প টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি নির্বাচিত কাজী সালাহউদ্দিন হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

এবার গ্রীসের রাজধানী এথেন্সেও ভয়াবহ দাবানল!

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে ইউরোপজুড়ে দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবার গ্রিসের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি রাজধানী এথেন্সের আশপাশেও ছড়িয়ে পড়েছে বড় ধরনের আগুন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানোর পাশাপাশি হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
একই সঙ্গে স্পেন ও ফ্রান্সের কয়েকটি এলাকায়ও নতুন করে দাবানলের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে একের পর এক রেকর্ড তাপপ্রবাহ এবং বৃষ্টির ঘাটতির কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনের বেশ কয়েকটি গ্রাম পুড়ে গেছে এবং শত শত হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ও পর্যটন আবাসন ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় লিওন প্রদেশে দাবানল পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শুক্রবার রাতে সেখানে নতুন করে একটি আগুনের সূত্রপাত হয়। একই সময়ে আরেকটি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, তবে তৃতীয় একটি আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

পার্শ্ববর্তী জামোরা প্রদেশে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরিয়ে নেওয়া ১৪টি শহরের বাসিন্দাদের বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু জরুরি বিধিনিষেধও তুলে নেওয়া হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় কাস্তেলন প্রদেশের ভাল দ’উইক্সো এলাকার দাবানল সপ্তম দিনে এসে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের উৎস হিসেবে দুটি পৃথক স্থান শনাক্ত হওয়ায় পুলিশ এটিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা হতে পারে বলে সন্দেহ করছে।

মধ্যাঞ্চলের মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া বড় দাবানলে ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। বর্তমানে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সান হুয়ান জলাধারের কাছে নতুন করে শুরু হওয়া একটি আগুন শুক্রবার নিভিয়ে ফেলা হয়েছে।

দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় গ্রিসের কর্তৃপক্ষ শনিবার বেশ কয়েকটি এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে অ্যাটিকা ও এভিয়া অঞ্চলে চরম ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

এথেন্সের প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বোয়োতিয়া অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী, ৯২টি ফায়ার ট্রাক, ভারী যন্ত্রপাতি ও বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

আগুনের কারণে আগিওস ভ্যাসিলিওস শহরের ২০০ জনের বেশি বাসিন্দাকে সমুদ্রপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই দাবানল থেকে বাঁচতে আরও ১২ জনকে পোর্তো জারমেনো সৈকত এলাকা থেকে গ্রিক কোস্ট গার্ডের টহল নৌকা ও ফায়ার সার্ভিসের জাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।

আর্গোলিদা ও আর্তা অঞ্চলেও রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালানো হয়েছে।

দাবদাহের প্রভাব শুধু দাবানলেই সীমাবদ্ধ নেই, বাড়ছে তাপজনিত মৃত্যুও।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, জুন মাসে দেশটিতে তীব্র গরমের কারণে রেকর্ড ৩৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই মাসে দেশটির প্রায় অর্ধেক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি ছিল। ১৫টি কেন্দ্রে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায়।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তাপজনিত কারণে দেশটিতে আনুমানিক ২ হাজার ৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্রান্সে ১৭ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত ৫ হাজার ৭৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জার্মানির আরকেআই স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এ বছর উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে দেশটিতে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জন মারা গেছেন।

তীব্র গরম ও বৃষ্টির ঘাটতির কারণে ইউরোপের জ্বালানি খাতেও প্রভাব পড়েছে। দানিউব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার্বিয়ার জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে।

জার্মানি থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত প্রবাহিত দানিউব নদীতে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও রোমানিয়ায় নৌপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে কম মাল নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সার্বিয়ার জ্বালানি আমদানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দেশটির জ্বালানি আমদানি এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে, রোমানিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ারইলেকট্রিকা নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ার কারণে তাদের দুটি রিঅ্যাক্টরের একটি বন্ধ করেছে। দ্বিতীয়টিও বন্ধ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD