শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন

কনের পিঁড়িতে অন্য মেয়ে, তবু হল না বিয়ে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অভিনব কায়দায় বাল্যবিয়ে দিতে গিয়েও তা আর সম্ভব হল না প্রশাসনের বাধায়। বাল্যবিয়ের খবরে প্রশাসন অভিযান চালালে অন্য মেয়েকে কনে সাজিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে প্রতারণা করা হয়। পরে ফের অভিযান চালিয়ে ওই বিয়ে ভণ্ডুল করে দেয় প্রশাসন।

একইসঙ্গে বর ও কনের পিতাকে কারাদণ্ড এবং কনের ফুপুকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যামাণ আদালত।

শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তাদের আটকের পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের এ কারাদণ্ড দেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল মারুফ।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কনের পিতা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া মণ্ডলপাড়া এলাকার মেজবান মণ্ডলের ছেলে তারিফ মণ্ডল (৪১), বর জুনিয়াদহ এলাকার এনামুর রশিদ বুলবুলের ছেলে আহাদুর রশিদ (২২)। এছাড়া কনের ফুপু হানুফা খাতুনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল মারুফ জানান, ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া মণ্ডলপাড়ায় ১৪ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্য বিবাহ হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় কনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিয়ের আয়োজন। কিন্তু সেটি বাল্য বিয়ে না। অভিযোগ বাল্যবিয়ে হলেও কনে প্রাপ্তবয়স্ক।

তিনি জানান, সেখান থেকে চলে আসার পর আবারো অভিযোগ পাওয়া যায়, সেখানে যে বিয়ে হচ্ছে সেটা বাল্য বিয়ে। অন্য মেয়েকে কনে সাজিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। ফের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কনে পরিচয় দেয়া শাম্মি নামের মেয়েকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে বাল্য বিয়েকে ধামাচাপা দিতে তারা এ কৌশল অবলম্বন করেছে। পরে ভেড়ামারা থানায় কনের পিতা, কনে ও বরকে হাজির করা হয়। তারা জানায়, কৌশলে তারা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে ঘটনা ভিন্নখাতে উপস্থাপন করতে।

ইউএনও জানান, এ ঘটনায় বাল্য বিয়ে দেয়ার অপরাধে কনের পিতা তারিফ মণ্ডলকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার অপরাধে বর আহাদুর রশিদকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা ও বাল্যবিবাহে সহায়তা করার দায়ে কনের ফুপু হানুকা খাতুনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোহেল মারুফ আরও জানান, শাম্মি আক্তার ভুয়া কনের সাজার ব্যাপারে জানায়- তার বাবা মা ও তারিনের বাবা মা তাকে বাধ্য করেছে মিথ্যা কথা বলতে এবং নিজেকে ভুয়া কনে হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD