মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, অর্থের অভাবে একজন মানুষও যাতে বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়, বর্তমান সরকার সেটি সর্বতোভাবে নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ‘শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক বা মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
ন্যায়বিচার সবার জন্য প্রযোজ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন ‘এক্সেস টু জাস্টিস’ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নন, এমন মানুষদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়, এটি প্রতিটি মানুষের জীবনেই সত্য ও বাস্তব হয়ে উঠুক,এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কখনোই কেবল আদালতকেন্দ্রিক কোনো প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ, যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, সিদ্ধান্ত এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নিজের দীর্ঘ সময় কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি, যারা শুধু আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া সুগম করতে লিগ্যাল এইড ফান্ড তৈরি করেছিলেন।

মামলাজট কমাতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান।

‘জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাইড’ প্রবাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতা করে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার বিরোধ স্বল্প সময়ে ও কম খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমেছে এবং সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।

সাধারণ মানুষ যেন প্রয়োজনে সহজেই প্রাথমিক আইনি পরামর্শ পেতে পারে, সে জন্য সরকারের ‘লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন’ আগামীতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাসের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের ‘সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি’ সেলকে সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD