মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘ইসরায়েলের চাপে অস্ত্র ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না’ পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা, চালু হচ্ছে হটলাইন ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু বুধবার ‘আন্দোলনকারীদের হত্যার পর হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়’ সীমান্ত হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া, যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ক্ষমতায় এসেই ৭ শতাধিক মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ বিজয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে প্রস্তুত ইরান উচ্চশিক্ষার জাতীয় কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

গোপনে পাকিস্তানের ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিয়েছিল ইরান

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরই পাকিস্তান গোপনে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের যুদ্ধবিমান ও গোয়েন্দা বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। যদিও সে সময় ইসলামাবাদ নিজেদের ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছিল।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের একাধিক সামরিক বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত নূর খান বিমান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়।

এসব বিমানের মধ্যে ইরানি বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ গোয়েন্দা বিমানও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক সম্পদকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেয়।

একই সময়ে নিজেদের বেসামরিক বিমানও আফগানিস্তানে সরিয়ে নেয় তেহরান। এর মধ্যে মাহান এয়ার-এর একটি বিমান যুদ্ধ শুরুর আগেই কাবুলে অবতরণ করে এবং পরে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেই অবস্থান করে।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, একটি বড় শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি সামরিক বিমান গোপনে রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও নিরাপত্তা বিবেচনায় করা হয়েছিল।

আফগান এক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরে তালেবান কর্তৃপক্ষ ওই ইরানি বিমানটিকে কাবুল থেকে হেরাত বিমানবন্দরে সরিয়ে নেয়, যাতে পাকিস্তানি হামলার ঝুঁকি এড়ানো যায়।

যদিও তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, পাকিস্তান একদিকে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছিল, অন্যদিকে তেহরান ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করতে গোপনে ইরানকে সহায়তা দিচ্ছিল।

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাকিস্তানের আমদানি করা অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও অঞ্চলে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালির আশপাশে ছোটখাটো সংঘর্ষ ও ড্রোন হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, গত সপ্তাহে একাধিক হামলার পর আবারও ইরানি ড্রোন তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও চীনের ভূরাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD