ইরানে হামলার উদ্দেশ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, স্পেন ভয়াবহ আচরণ করেছে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করতে যাচ্ছি। স্পেনের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পাল্টা জবাবে স্পেন এক বিবৃতিতে জানায়, সম্ভাব্য মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গেও জড়িত।
স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০- এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।