বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষমুখী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ সে) বিকেলে বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডে ঘটনাটি ঘটার পরপরই স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে আসে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত শাস্তি ও জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত শত মানুষ এলাকায় জড়ো হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম সিএমপি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ডেকোরেশনের এক কর্মচারীকে আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের গাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং আসামিকে পুলিশের হাতে না দিয়ে সরাসরি তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এতে এলাকায় ধোঁয়া ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা চলতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

ঘটনার সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্যে দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং তিনি শিশুটিকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটান এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপরই স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে এসে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মামুন নামের একজন বলেন, ‘আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই, পুলিশের হাতে দেব না। বিচার দ্রুত না হলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব।’

বাদশা নামের এক যুবক বলেন, ‘ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা না। আমরা চাই দ্রুত বিচার হোক। মানুষ রাস্তায় নেমেছে কারণ তারা ন্যায়বিচার দেখতে চায়।’

খাদিজা বেগম বলেন, ‘এলাকায় এমন ঘটনার পর মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারছি না। ছোট বাচ্চার সঙ্গে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, যেন দোষীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ জড়িত আসামিকে আটক করে। শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়। আসামিকে থানায় আনার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পথ আটকে দেন। তাদের বোঝানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী আসামির বিচার হবে, কিন্তু লোকজন তা মানতে নারাজ। লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে।’

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD