রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন

চরম উস্কানিমূলক আচরণের দায় মালিকদের নিতে হবে

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

ঈদের পরপরই নতুন করে শুরু হওয়া ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই এবং মিথ্যা মামলায় শ্রমিকদের হয়রানি-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

গার্মেন্ট টিইউসির সভাপতি শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, মহামারি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গার্মেন্ট শিল্পমালিকরা নিজেদের মুনাফার মার্জিন নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা খুবই ন্যক্কারজনক।

মালিকরা চরম উস্কানিমূলক আচরণ করছে অভিযোগ করে তারা বলেন, তাদের বেপরোয়া ভূমিকার ফলে শিল্পে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তার দায় মালিকদের নিতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতির জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতারা বলেন, বিজিএমইএ সভাপতির বক্তব্য ঔদ্ধত্যপূর্ণ। যারা শ্রমিকের চাকরিজীবনের অবসানকালে আইনানুগ পাওনা বঞ্চিত করতে নানা ছলাকলার আশ্রয় নিয়ে থাকেন, তারা মহামারিকালে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সুযোগ সর্বোতভাবে কাজে লাগাতে চাচ্ছে।

নেতারা আরও বলেন, ৫৫ শতাংশ কাজ কমে যাওয়ার হিসাব ডাহা মিথ্যা তথ্য। অনেক কারখানায় নতুন নিয়োগ এবং পুরাতন শ্রমিকের নতুন করে চাকরিতে যোগদানের তারিখ দেয়া হচ্ছে।

তারা বিবৃতিতে বলেন, মহামারি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একের পর এক শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার সাক্ষীগোপালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মালিকদের প্রতিটি অন্যায় আবদার মেনে নিয়ে তারা একের পর এক শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

তারা বলেন, চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে শ্রমিকের জীবন বাঁচানো এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের জন্য অব্যাহত ছাঁটাই এবং মিথ্যা মামলায় শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এপ্রিলসহ বকেয়া বেতন, ঈদের বোনাস এবং মে মাসের বেতন দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। করোনা আক্রান্ত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা, আইসোলেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া আগামী বাজেটে শ্রমিকদের রেশনিং ও বাসস্থানের জন্য অর্থ বরাদ্দের জোর দাবি জনান নেতৃবৃন্দ।

গার্মেন্ট টিইউসি নেতৃবৃন্দ শিল্পে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে মালিকদের সকল ধরনের শ্রমিকবিরোধী অন্যায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বে ভোক্তার চাহিদা কমে যাচ্ছে। দেশের পোশাক কারখানার কাজও ৫৫ শতাংশ কমেছে। এমন অবস্থায় জুন থেকেই শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হবে।

শ্রমিক ছাঁটাই বিষয়টি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের করার কিছু নেই। কারণ শতকরা ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চলছে। আমাদের ছাঁটাই ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের জন্য কী করা হবে; এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলছি, কীভাবে এ সংকট মোকাবিলা করা যায়। তবে এ অবস্থা হঠাৎ করে বদলেও যেতে পারে। তখন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরাই কাজে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।’

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD