চাঁদপুরে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য মতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত এই সংখ্যা ১ শ ৮০ তে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে করোনা পজিটিভ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৫ জন। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ মারা গেছেন আরো ৬ জন।
চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, শনিবার ১৪ জনের নমুনায় করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৮ বছরের এক শিশু রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন করোনা আক্রান্ত রোগী ১ শ ৮০ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন মারা গেছেন। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনজন। অন্যরা নিজ বাড়িতে। চাঁদপুরে মৃত্যুর হার কমাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ দরকার। নাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।
সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে চাঁদপুরে ৬ জন মারা গেছেন। তারা হচ্ছেন, চাঁদপুর সদরের বালিয়া গ্রামের ফয়েজ উল্লাহ (৭৫), শহরের নিউ ট্রাক রোডের আবুল খায়ের (৬০), শহরের দর্জিঘাটের এক নারী (৪৫), মতলব উত্তরের ফরিদকান্দির মোসলেমউদ্দিন বেপারী (৫০), ফরিদগঞ্জের রাজাপুর গ্রামের আবুল হাসনাত হাশেম ((৫০) ও কচুয়া উপজেলার পালগিরি গ্রামের ফজিলাতুন নেছা (৭০)। দুদিন আগে ফজিলাতুন নেছার স্বামী মজিবুর রহমান বাচ্চু সরকার (৮০) ও এক সপ্তাহ আগে তাদের ছেলে মানিক সরকার (৫০) মারা যান।
দেশের জেলাগুলোর মধ্যে চাঁদপুরে তুলনামূলক মৃত্যুর হার বেশি। আক্রান্তদের অনেকেই তথ্য গোপন করে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যে কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন দুই শ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও ঢাকায় ৫০ জনের বেশি নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। এজন্য নমুনা পরীক্ষায় চাঁদপুরে একটি পিসিআর ল্যাবের পাশাপাশি আইসিইউ স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয়রা।