কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘সংকটময় মুহূর্তে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান সাহসিকতার পরিচয় দেন, যা দেশের মুক্তিযুদ্ধকে নতুন গতি দিয়েছিল।’
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে ইটনা সদরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল অর্থনৈতিক সততা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি মানুষের প্রতি গভীর আস্থা রাখতেন। তার এই বিশ্বাস ও সরলতাই জীবনের শেষ সময়ে তাকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকতে উৎসাহিত করেছিল। মানুষের প্রতি আস্থাশীল এই নেতা শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসের মূল্য জীবন দিয়ে দিয়েছেন।
এ সংসদ সদস্য বলেন, সামরিক পটভূমি থেকে উঠে এলেও জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ সৃষ্টি এবং নির্বাচনী রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে তিনি গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করেছিলেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ফজলুর রহমান বলেন, সততা ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের অভাবেই দেশ নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাতে পারত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি দেশের মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিলেন।
ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জুয়েল।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।