রংপুর প্রতিনিধি : তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে পূর্বইচলি ঈদগাহ মাঠ। একইসঙ্গে ভাঙ্গন হুমকির মুখে পড়েছে চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন আনন্দলোক বিদ্যালয়। পানি বৃদ্ধির ফলে গংগাচড়ায় শেখ হাসিনা মহিপুর কাকিনা সংযোগ সড়কে আবারও ভাঙ্গন দেখা দেখা দিয়েছে।
তিস্তার ভাঙ্গনে গংগচড়া বিস্তীর্ণ জনপথ ও আবাদি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কার্যক্রম চোখে দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তায় পানি বাড়ছে, বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনসহ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সদ্য রোপণকৃত আমন ক্ষেত।
জানা যায়, গত সোমবার থেকে তিস্তার পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত ঈদের সময় শংকরদহ এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে বর্তমানে তিস্তার আরও দুটি চ্যানেল চ্যানেল হয়েছে। তিস্তার স্বাভাবিক গতি পথ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যার একটি যাচ্ছে চর ইচলি হয়ে এসকেএস বাজার দিয়ে অন্যটি যাচ্ছে গঙ্গাচড়ার শেষ প্রান্ত সেরাজুল মার্কেটের ব্রিজের নিচ দিয়ে।
সেরাজুল মার্কেটের কাছে ইতিমধ্যে এলজিইডি নির্মিত মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কটির ১০মিটার জুড়ে ব্লক ধসে গেছে। এসকেএস বাজারের কাছে পূর্ব ইচলি ঈদগাহ মাঠ, জয়রাম ওঝা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন কবরস্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া পুর্ব ইচলি,পশ্চিমইচলি, বাগেরহাট,শংকরদহ,জয়রামওঝা এলাকায় প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তার ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। লোকজন বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসকেএস বাজারের পুর্ব পাশে পুর্বইচলি এলাকার ঈদগাহ মাঠটির সামনের রাস্তার আর ৪/৫ ফুট ভাঙ্গলে ভাঙ্গন এসে ঠেকবে ঈদগাহ মাঠে। সেই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে চর ইচলি এলাকার মোনাজাতউদ্দিন আনন্দলোক বিদ্যালয়টিও ভাঙ্গন হুমকির মুখে পড়ছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, পুর্বইচলি ঈদগাহ মাঠটি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। তাছাড়া মোনাজাত উদ্দিন আনন্দলোক বিদ্যালয়টিও ভাঙ্গন হুমকির মুখে পড়েছে।
শেখ হাসিনা সংযোগ সড়কে ভাঙ্গনের কথাও স্বীকার করে তিনি বলেন, গত ২ দিন ধরে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারণে আবারও বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২ হাজার পরিবার।
তিনি আরও বলেন, গত মাসে এসকেএস বাজারের কাছে সড়কের ৫০ ফুট অংশ ধসে গিয়েছিল। সে যাত্রায় বালির বস্তা ডাম্পিং করায় ভাঙ্গন রোধ হয়েছিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী এজেডএম আহসানউল্লাহ বলেন, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে কিছু বালির বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোলাম জাকারিয়া বলেন, যেহেতু রাস্তায় ভাঙ্গন সেহেতু আমাদের ওখানে করনীয় কিছু নেই। এ কাজ এলজিইডি করবে।