নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শ্বশুর বাড়িতে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে, তবে এটি সুপরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী করছেন নিহতের পরিবার। নিহত ঝর্ণা বেগমকে ননদ পারুলের স্বামী হুমায়ুন ধর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের বাবা আবুল কালাম। মঙ্গলবার ভোররাতে সুবর্ণচর উপজেলার ৫নম্বর চরজুবিলী ইউনিয়নের পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাহাব উদ্দিনকে আটক করেছে চরজব্বার থানা পুলিশ। এ ছাড়া লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। এসময় নিহতের ঘর থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পিতা আবুল কালাম বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন অকারণে মারধর করত। সম্প্রতি সাহাব উদ্দিনের বোনের স্বামী হুমায়ুন আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়ের কাছ থেকে এ ঘটনা জানতে পেরে আমি বিষয়টি এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই। বিচার সালিসও হয় বিষয়টি নিয়ে। গত ২৮ জুন আমার স্ত্রীকে ঝর্ণা ফোন করে জানান, তাঁর ননদের স্বামী হুমায়ুন তাঁর থাকার রুমে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে আমার স্ত্রী মেয়ের শ্বশুর বাড়ি গেলে মেয়ের শাশুড়ি হাজেরা বেগম হাতজোড় করে ধরে বলেন, বিষয়টি তারা সমাধান করবেন। পরে আমার স্ত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় স্থানীয় এলাকার মেম্বার ফোন করে জানান ঝর্ণা আত্মহত্যা করেছে।
এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে নিহতের স্বামী সাহাব উদ্দিন (২৬), ভগ্নিপতি মো. হুমায়ুনকে (৩৫) আসামি করে চরজব্বার থানায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, তারা ২/৩ দিন ধরে শুনে আসছিলেন নিহতের স্বামী কর্মস্থল চট্রগ্রামে থাকার সুবাধে নিহতের ননদের স্বামী হুমায়ুন শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে ঝর্ণাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। এ বিষয়ে সোমবার বিকালে পারিবারিকভাবে বৈঠকও হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
চরজব্বার থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
লাইট নিউজ