শীতের শুরু হতেই কদর বেড়েছে ‘নলেন গুড়ের সন্দেশে’র। নড়াইলের লোহাগড়ার ‘নলেন গুড়ের খাঁটি সন্দেশে’র জুড়ি নেই।এ সন্দেশের চাহিদা শুধু দেশে নয় বিদেশেও রয়েছে।
প্রকৃতির ইতিহাস থেকে জানা যায়, মিষ্টির সৃষ্টি রস থেকে। আর রস থাকলেই আমরা তাকে রসবোধ সম্পন্ন মানুষ বলে থাকি। যিনি কখনও লোহাগড়ার ‘নলেন গুড়ের সন্দেশে স্বাদ গ্রহণ করেননি তিনি তো আর বুঝবেন না কি স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেছেন নিজেকে। তাকে রসবোধহীন বললেও হয়তোবা ভুল হবে না। মানুষ স্বভাবতই মিষ্টি পছন্দ করে। আর কাঙ্খিত সেই মিষ্টি যদি হয় লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা খেয়াঘাটস্থ কয়েকটি দোকানের এই নলেন গুড়ের সন্দেশ। বিয়ে, সুন্নতে খাৎনা, নববর্ষ ছাড়াও এমন কোনও অনুষ্ঠান নেই যেখানে ওই দোকানের সন্দেশ সরবরাহ করা হয় না।
দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের আনাচে-কানাচে এ সন্দেসের গুণের কথা পৌঁছে যাচ্ছে। শীত মৌসুমে শুরুতে খেজুরগাছিদের কাছ থেকে দোকানদাররা খাঁটি নলেন রস সংগ্রহ করে থাকেন। সেই রস থেকেই নলেন গুড় তৈরি হয়। আর এ গুড় থেকেই তৈরি হয় সন্দেশ। প্রতি কেজি সন্দেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় এলাকায় বিক্রি হয়। প্রতি দিন গড়ে ওই দোকানে ৩/৪ মণ মিষ্টি বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি’র পরীক্ষার ফলাফলের দিন ওই দোকানের মিষ্টি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এ সন্দেশ খেতে চলে আসে ঢাকাসহ আশপাশের জেলার ভোজনবিলাসী মানুষজন। এ সন্দেশ বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। প্রবাসীরা তাদের আত্মী-স্বজনদের মাধ্যমে এর স্বাদ গ্রহণ করতে পিছিয়ে নেই।
এ ব্যাপারে কথা হয় সাহা সুইটসের মালিক নলেন গুড়ের সন্দেসের কারিগর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার(বি,এস,সি) অভিজিত সাহা অভির সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে আমার দাদা সচিন্দ্রনাথ সাহা নলেন গুড়ের সন্দেস তৈরী করে বিক্রি করতেন। বাজারে প্রচুর চাহিদা ও সুনাম থাকায় দাদার মৃত্যুর পর দাদি নমিতা রাণী সাহা হাল ধরেন। নলেন গুড়ের সন্দেস তৈরি ও বিক্রি আমাদের পৈত্রিক ঐতিহ্য বহন করে। ভুক্তাদের হাতে ভালোমানের মিষ্টি বা খাঁটি নলেন গুড়ের সন্দেস তুলে দিতে পারলে নিজেরাও খুব তৃপ্ত হই। সৌদি আরব, দুবাই, আমেরিকা, জাপান কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই সন্দেশ লোক মারফত হরহামেশাই যাচ্ছে। তবে ভারতেই বেশি চাহিদা।
লোহাগড়ার বাসিন্দা নিরাপথ সড়ক ও রেলপথ ব্যাস্তবায়ন কমিটির বাংলাদেশর সভাপতি সৈয়দ খায়রুল আলম জানান,অন্য জেলা থেকে লোহাগড়ায় কেউ বেড়াতে আসলে তাকে অন্তত নলেন গুড়ের সন্দেশ না খেয়ে যেতে দেয়া হয় না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে সন্দেস ছাড়াও রয়েছে নলেন গুড়ের চমচম। কেজি দুইশ’ থেকে চারশ’ টাকা। এর চাহিদাও অনেক। বছরের প্রায় ছয় মাস এ সন্দেশ ও চমচম পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইনের মাধ্যমেও এসব মিষ্টি হরহামেশা বিক্রি হচ্ছে।
লাইটনিউজ