বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

ন্যাটোকে বিপদে ফেলার ফন্দি আঁটছে যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোয় এবার পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে বিপদে ফেলার ফন্দি আঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। সংকটের সময় ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য সামরিক সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, রণজাহাজ ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও রয়েছে। যদিও ন্যাটোকে ‘অভূতপূর্ব’ চাপের মধ্যে রেখেছে ওয়াশিংটন। কিছু ইউরোপী দেশ আশঙ্কা করছে যে, ওয়াশিংটন হয়তো জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পিগেল।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় না করার জন্য তীব্র সমালোচনা করেছেন। এবং জোটভুক্ত জার্মানি থেকে হাজার হাজার সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ডেনমার্কের অধীনস্থ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আটলান্টিক মহাসাগরীয় উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সমর্থনের অভাবের জন্য ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন তার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন।

স্পিগেলের প্রতিবেদন অনুসারে, গত সপ্তাহের শেষের দিকে ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের একজন প্রতিনিধি সদস্য দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে ন্যাটো মিত্রদের জানানোর পরিকল্পনা করছিল যে, সংকটকালে জোটের জন্য সামরিক সহায়তার পরিমাণ অনেকাংশে সংকুচিত করা হবে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগের সংখ্যার মাত্র অর্ধেক কৌশলগত বোমারু বিমান সরবরাহ করার লক্ষ্য রেখেছে। বিশেষত, মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হবে বলে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন দূত আলেকজান্ডার ভেলেজ-গ্রিন বলেছেন বলে স্পিগেল জানিয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনীও ন্যাটোকে কম সংখ্যক ডেস্ট্রয়ার সরবরাহ করতে চলেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই জোটকে আর কোনো সাবমেরিন সরবরাহ করার ইচ্ছা রাখে না। এই পরিবর্তনের ফলে ইউরোপকে নিজস্ব গোয়েন্দা ড্রোন সরবরাহ করতে বাধ্য করা হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র মডেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।

স্পিগেল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জুনের শুরুতে একটি বাহিনী গঠন সম্মেলনে আরও বিস্তারিত তথ্য দেবে।

জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ন্যাটোর একজন মুখপাত্রী স্পিগেলকে বলেছেন, ন্যাটোর সামরিক পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘অতিরিক্ত নির্ভরতা’ ছিল এবং ইউরোপ ও কানাডা প্রতিরক্ষায় আরও বিনিয়োগ করায় জোটের অভ্যন্তরীণ সামরিক দায়িত্বগুলো পুনর্গঠিত হতে পারে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD