ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গঠিত আব্রাহাম চুক্তিতে পাকিস্তানকে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পাকিস্তানের সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না, আমাদের এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত, যা আমাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট এবং অপরিবর্তিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পরই খাজা আসিফের এই মন্তব্য এলো।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
তার দাবি, আরও বেশি দেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী হবে।
সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
খাজা আসিফ বলেন, আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
পাকিস্তানের ৭৮ বছরের ইতিহাসে দেশটি কখনও ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশটির নাগরিকদের ইসরায়েল সফরেরও অনুমতি নেই।
খাজা আসিফ আলোচনায় বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও তুলেছেন। তিনি বলেন, যাদের কথায় একদিনের জন্যও ভরসা করা যায় না, তাদের সঙ্গে কীভাবে বসবেন?
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারণার অন্যতম কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত খাজা আসিফ।
গত মাসে তিনি ইসরায়েলকে মানবতার জন্য অভিশাপ আখ্যা দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে অঞ্চলটিতে গণহত্যা চালানোর অভিযোগও তুলেছিলেন দেশটির বিরুদ্ধে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেওয়া পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জটিল একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসলামাবাদ সবসময় বলে এসেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নই আসে না।