মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টিও ওই চুক্তির অংশ এবং এ নিয়ে আলোচনা বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে।
ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।
ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চার দিনের ভারত সফরে থাকা রুবিও বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইতিবাচক খবর আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
তার মতে, আলোচনার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, বিশ্বকে আর ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হবে না।
ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলাদাভাবে ইসরায়েলের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত দিকগুলো এবং বিস্তারিত বিষয় বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না। পাশাপাশি দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও পরিত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কীভাবে ইরান এই ইউরেনিয়াম ত্যাগ করবে, তা নিয়ে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে।
তার মতে, মজুদের একটি অংশের সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে; সম্ভবত রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র-মানের ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে এটি প্রযুক্তিগতভাবে খুবই স্বল্প দূরত্বে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করলে সমান্তরালভাবে হরমুজ প্রণালিও ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করা হবে।
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দেবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়গুলোও ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত হবে।
এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এখনও তাদের জন্য বড় হুমকি এবং লেবাননের পক্ষে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করা কঠিন।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, লেবাননসহ সব ক্ষেত্রে হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা ইসরায়েল বজায় রাখবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইরানকে পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে হবে এবং দেশের বাইরে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হবে। এই শর্ত পূরণ ছাড়া তিনি কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।
ইসরায়েলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল, যিনি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অংশ, রোববার সেনাবাহিনীর রেডিওকে বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে অপেক্ষা করো, দেখো নীতি অনুসরণ করছে।
সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিএনএন