ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে পোস্টাল ব্যালট দখলের অপচেষ্টা চলছে অভিযোগ করে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের প্রস্তাবিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী একটি রাজনৈতিক শক্তির কারণে দেশের লাখো মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শহীদ হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
সেই শক্তিই আবার জনগণের সামনে আসতে চাইছে। ৫০ বছর আগেই জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে, নতুন করে দেখার কিছু নেই। এখন সময় এসেছে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সৎ শাসনের কথা বলে তারা নিজেরাই অসৎ পথে হাঁটছে। নির্বাচনের আগেই যারা অসৎ কাজে লিপ্ত, তাদের পক্ষে কখনোই সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার চেষ্টা হয়েছিল। বিএনপিকে ভোট দিলে আবারও সেই সুযোগ তৈরি হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে মানুষ ভোটাধিকার পেয়েছে। এই অধিকার নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ভোটের মাধ্যমেই জনগণ ঠিক করবে ভবিষ্যতে দেশ কীভাবে চলবে।
প্রয়োজনে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে প্রস্তুতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায়ের কথাও বলেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, এবারের ভোটে দেশের মানুষ ন্যায়পরায়ণতা ও সততার পক্ষে রায় দেবে।
ভোটাধিকার নষ্ট হলে দেশের জন্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। তাই কেউ যেন ভোটার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারের মা-বোন ও কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা বিদেশে ভালো বেতনে চাকরি পেতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, মহাসড়ক থেকে গ্রামগঞ্জের ভাঙা রাস্তাঘাটই প্রমাণ করে, গত ১৫ বছরে যারা প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তারা উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্কুল-কলেজ ও সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ১৬ বছরে দেশকে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে জাতীয় সম্পদ।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এলাকায় এমন জনপ্রতিনিধি দরকার, যাদের কাছে এলাকার সমস্যা নিয়ে যাওয়া যায়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই এর একমাত্র পথ। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন সেই সুযোগ এনে দেবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।