ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১২ মার্চ। যা নানা চড়াই-উতরাই আর সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায় অতিক্রম করেছে। এবারের অধিবেশন মোট ২৫টি কার্যদিবসে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সরব উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত ছিল নবীনদের জয়গানের এই অধিবেশন।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য সংসদকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আগামীর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
এই দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংসদের গণতান্ত্রিক আবহাওয়া যেমন ফুটে উঠেছে, ঠিক তেমনি সংসদীয় বিতর্কের মধ্য দিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর একটি প্রয়াসও পরিলক্ষিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে শেষদিনের সংসদ অধিবেশন চলে রাত ৯টার বেশি সময়। সকালের সেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করলেও দুপুরের পরের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ ২৫ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেমন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ও সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন, ঠিক তেমনি বিরোধীদলীয় নেতা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংকট ও বাজারের অস্থিরতা নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শীর্ষ দুই নেতার এই তুলনামূলক অবস্থান ও সংসদীয় বিতর্কের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী দর্শন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে।
আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে এই অধিবেশন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। অধিবেশনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপিত হয়েছিল, যার বিপরীতে সংসদীয় চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে ৯১টি বিল পাশ করা হয় এবং শেষ দিনে আরও ২টিসহ মোট ৯৪টি বিল আইন হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে।
আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদের কার্যকারিতা বাড়াতে ৫টি স্থায়ী কমিটি ও ২টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক তৎপরতা ও নতুন কমিটিগুলোর সৃষ্টি মূলত সরকারের নির্বাহী বিভাগের ওপর সংসদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে আরও দায়বদ্ধ করার একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে