শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
সিএনএনের বিশ্লেষণ

ফের যুদ্ধে জড়ালে বড় বিপদে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে মাসব্যাপী যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে গেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ঠিক এই সময়ে আবারও যুদ্ধে জড়ালে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে বিপদ বাড়বে। তাদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে গোলাবারুদ ঘাটতির ‘স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে। তবে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তির মোকাবিলার করার সক্ষমতা তাদের শেষ হয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, গত সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫% স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাডের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০% খরচ করেছে।

সেন্টার ফর স্ট্রাটিজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস তাদের এক বিশ্লেষণে এই তথ্য তুলে ধরেছে। যা পেন্টাগনের গোপন তথ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে পেন্টাগন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে কয়েকটি চুক্তি করলেও নতুন করে এসব অস্ত্র মজুদ পূরণ করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। স্বল্পমেয়াদে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও রয়েছে।

তবে বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের মতো সমমর্যাদার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই সময়ে মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র এখন আর মজুদে নেই। এই ঘাটতি পূরণ করে আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

সিএনএন জানিয়েছে, অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যবহার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে সাময়িকভাবে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। মজুদ পুনরুদ্ধারে ১ থেকে ৪ বছর লাগতে পারে এবং প্রয়োজনীয় মাত্রায় বাড়াতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে।

যদিও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০%, দীর্ঘপাল্লার জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস মিসাইলের ২০% এর বেশি, এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০% ব্যবহার করেছে। এসব মজুদ পুনরায় পূরণ করতে প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না, যদিও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। সেটিই এখন বাস্তব হয়ে দাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD