শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

আরচ্যারিতে সাধারণ সম্পাদকে অনাস্থা, ফেডারেশনকে তলব মন্ত্রীর

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
আরচ্যারিতে সাধারণ সম্পাদকে অনাস্থা, ফেডারেশনকে তলব মন্ত্রীর

দেশের অন্যতম সফল খেলা আরচ্যারি। মাঠে সফল খেলা এখন ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বে শিরোনামে। আজ আরচ্যারি ফেডারেশনে নির্বাহী কমিটির সভা ছিল।

সেই সভায় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলোর ওপর অনাস্থা এসেছে। আজকের সভায় উপস্থিত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই তানভীর আহমেদ আলোর সঙ্গে কাজ করতে চান না।

হঠাৎ সাধারণ সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা আনার কারণ সম্পর্কে ফেডারেশনের সদস্য ও মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক মোঃ রুবেল হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বোর্ড মেম্বাররা সাধারণ সম্পাদকের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি তিনি মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়েছেন ফেডারেশন অ্যাকাউন্টস থেকে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। যেটা তিনি দায়িত্বপূর্ণ জায়গা থেকে বলতে পারেন না এবং সেটা কমিটির সকলের জন্য মানহানিকর। প্রতিটি অর্থ আরচ্যারির পেছনে ব্যয় হয়েছে সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রতিটির নোটশিট রয়েছে। কমিটির প্রায় সকলেই তার এই আচরণে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছে।’

আর্থিক বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সাধারণ সম্পাদক চিঠি দিয়েছেন। যা আজকের সভায় অনেকে বিব্রত হয়েছেন। যুব অলিম্পিক গেমসে আরচ্যারি ডিসিপ্লিন এবার নেই। কানাডা যুব বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে পূর্ণ শক্তির ও পুরো দল পাঠায়নি। ফলে বাংলাদেশ র‌্যাংকিং ও পয়েন্টে অন্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে। এই বিষয়েও আজ সাধারণ সম্পাদক কাঠগড়ায় ছিলেন।

অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলোর বক্তব্য, ‘আমাকে মিটিংয়ে বলা হয়েছিল মিডিয়ায় যা বলছি সেটা ভুল এবং ক্ষমা চাওয়ার জন্য। আমি সেটা বলব না বিধায় তারা আমার প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রশাসনিক বিষয়ে আমি দায়বদ্ধ তাই আমি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানিয়েছে। আমি যা করেছি সেটা আইনের মধ্যে থেকেই।’

ফেডারেশনগুলোতে চেক স্বাক্ষরের এখতিয়ার থাকে মূলত কোষাধ্যক্ষ, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির। অর্থ সম্পাদক হিসেবে কোষাধ্যক্ষ আর্থিক বিষয় দেখভাল করেন। আরচ্যারি ফেডারেশন কোষাধ্যক্ষ বদল করেছে। নতুন কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে।

এসব কিছুই হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমতির আগেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনের অভিভাবক এবং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটিতে কোনো পদ বদলের এখতিয়ার কেবল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ফেডারেশন বোর্ড সভা করে কোষাধ্যক্ষ বদল করে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে ফেডারেশনের সভাপতি সাবেক জনপ্রশাসন সচিব যিনি এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো যেখানে সবচেয়ে বেশি জানার কথা।

আরচ্যারি ফেডারেশনে উদ্ভুত অস্থিরতা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অ্যাডহক কমিটির সকল সদস্যদের সভার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আজ বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ক্রীড়া আমিনুল এহসান এই সংক্রান্ত চিঠি স্বাক্ষর করেন। সেই সভায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কিভাবে আরচ্যারির অশান্ত পরিবেশ শান্ত করেন সেটাই দেখার বিষয়।

আরচ্যারি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সংগঠক কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপল। দুই যুগের বেশি সময় তিনি এই খেলাটি দেশে বিকশিত করেছেন। পাশাপাশি সরাসরি অলিম্পিকে খেলার অবস্থানে পৌঁছেছেন টানা দুই বার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে সকল ফেডারেশনে রদবদল হয়েছে। সেখানে চপলকে আরচ্যারির সাধারণ সম্পাদক করে একটি প্রজ্ঞাপন হয়।

এতে সার্চ কমিটির আহ্বায়ক ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চপলকে সদস্য করে তানভীর আহমেদ আলোকে সাধারণ সম্পাদক করেন। তানভীর আহমেদ আরচ্যারির আম্পায়ার/জাজ হিসেবে কাজ করেছেন। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তেমন না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক হয়ে ইতোমধ্যে এক বছর পার করেছেন। নানা সময় কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে খানিকটা দূরত্ব ও সমন্বয়হীনতা গোপনীয় পর্যায়ে থাকলেও কোষাধ্যক্ষ পরিবর্তন কেন্দ্র করে সেটা প্রকাশ্যে এসে অনাস্থা ও মন্ত্রী তলব পর্যন্ত গড়িয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD