বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

বিডিআর হত্যাযজ্ঞের পর বাংলাদেশের সেই ২০০ একর জমি দখল করে ভারত

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস-বিডিআর সদর দপ্তরে ইতিহাসের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর এ বাহিনী কিছুদিন খানিকটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এই অস্থিরতাকেই দুর্বলতা হিসেবে কাজে লাগিয়ে সাড়ে তিন মাসের মাথায় ১৭ জুন সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশের ২০০ একর জমি দখলে নিয়ে নেয় ভারত। পরে সেই জমি তো উদ্ধার হয়নিই, বরং ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে সিলেট সীমান্তের কিছু ছিটমহল ভারতের দখলে চলে যায়। নামে ছিটমহল বিনিময় হলেও সে সময় সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশ এক ইঞ্চি ভূমিও পায়নি।

সার্বভৌম বাংলাদেশের ভূখণ্ড এভাবে ভারতের জবরদখলে চলে যাওয়ার পেছনে দায়ী করা হয় তৎকালীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকে। সিলেটের স্থানীয়দের ভাষ্যে, ২০০৯ সালের জুনে ২০০ একর জমি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ দখল করার সময় বিজিবি প্রতিরোধ করতে চাইলে ‘ঊর্ধ্বতন মহলের’ নির্দেশে পিছু হটে। এরপর এই জমি আর ফিরে পায়নি বাংলাদেশ। অন্যদিকে ছিটমহল বিনিময়ের নামে ২০১৫ সালে ভারত একপাক্ষিক জরিপ করে জমি দখল করলেও বাংলাদেশকে দেয়নি এক ইঞ্চিও।

সেই ক্ষোভ আজও শোনা যায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মুখে।
ভারতের দখলবাজি, নলজুড়ি বিলে খেলার মাঠ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা
সিলেটের গোয়াইনঘাটের তামাবিল শুল্ক বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ১৫/২০ গজ দূরে ভারত। এখানে বেশ সংকুচিত ‘নোম্যান্স ল্যান্ড’। পাশেই একটি টিলা।

এই টিলা ভারতের দখলে। আন্তর্জাতিক সীমানারেখা অনুযায়ী, উভয় দেশের দেড়শ গজ ‘নোম্যান্স ল্যান্ড’ থাকার কথা থাকলেও তামাবিলে সেটা নেই।

নলজুড়ি
শুধু গোয়াইনঘাট নয়, জৈন্তাপুর এলাকার বিভিন্ন সীমান্তেও ভূমি দখল নিয়ে জিরো লাইন সংকুচিত করেছে ভারত। সীমান্তের সাব পিলার সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০০৯ সালের সেই জবরদখল এবং ২০১৫ সালের কথিত ছিটমহল বিনিময়ের নামে জমি হাতিয়ে নেওয়ার পরও বিএসএফ এবং সে দেশের খাসিয়াদের সীমান্তে ভূমি জবরদখলের চেষ্টা থেমে নেই।

প্রায় দুই যুগ ধরে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের দখলে থাকা ভাইরাল মাঠ খ্যাত নলজুড়ি বিলে খেলার মাঠের ৬-৭ একর ভূমি বারবারই দখল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিজিবির সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রতিবাদ করলে তারা পিছু হটে।

স্থানীয়রা জানান, ভারত বলতে চায়, মাঠটি তারা পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সময়ে (২০১৫) মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আওতায় পেয়েছে। কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকরা সেটা মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি অসম চুক্তির আওতায় হাসিনার সরকর ভারতকে দিয়ে দিতে চেয়েছিল। সম্প্রতি এই জায়গাটি বিএসএফ দখল নিতে চাইলে স্থানীয়রা তাদের তাড়িয়ে দেয়।

সীমান্তে ভারতের দখলবাজির সূত্রপাত
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই শতাব্দীতে ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তে দখলবাজির শুরু হয় সিলেটের পদুয়াতে। ২০০১ সালের প্রথম দিকে ভারতের বিএসএফ তাদের পাশের আরেকটি ক্যাম্পের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শুরু করে বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতর দিয়ে। এই রাস্তা নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের বিডিআর আপত্তি তুললেও ভারতের বিএসএফ তাতে কর্ণপাত না করে তাদের কাজ চালিয়ে যায়। এমন অবস্থায় বিডিআরের সে এলাকায় তাদের একটি অস্থায়ী অপারেশনাল ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর বিডিআর সেখানে গিয়ে তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করে। তখন বিএসএফ ৬টি গুলি করে। এরপর বিডিআর অ্যাকশনে গেলে বিএসএফের প্রায় ৭০ জনের মতো আত্মসমর্পণ করে। বিডিআর দখলে নেয় পদুয়া।

নলজুড়ি
ওই ঘটনার জের ধরে ২০০১ সালের এপ্রিলে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের বড়ইবাড়ি বিডিআর ক্যাম্প দখলে চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। তখন স্থানীয়দের সহায়তায় বিডিআর সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সশস্ত্র সংঘাতে ভারতীয় ১৬ বিএসএফ ও তৎকালীন বিডিআরের ‍দুজনসহ ২১ জন নিহত হন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কারও কারও মতে, পদুয়া ও বড়াইবাড়ির ঘটনায় বিডিআরের ওপর ভারত রাষ্ট্রের তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। ২০০৯ সালে দিল্লির আস্থাভাজন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় ঘটে ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিদ্রোহের নামে বিডিআরের মহাপরিচালকসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুসারে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জড়িত এবং এর মূল সমন্বয়কারী ছিলেন পরিবারের সদস্য সাবেক ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ হত্যাকাণ্ডে ‘বহির্শক্তির’ সম্পৃক্ততাও উঠে আসে।

পিলখানার ওই ঘটনার পর গোটা বিডিআরে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। পরে অবশ্য চেইন অব কমান্ড ফিরে আসে। কিন্তু অনেক সদস্যকে বিদ্রোহের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। নাম বদলে ফেলা হয় বিডিআরের। করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভ্যন্তরে এই বিশৃঙ্খলা আর অস্থিরতারই সুযোগ নেয় বিএসএফ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৭ জুন গোয়াইনঘাট নলজুড়ি, তামাবিল, আমস্বপ্ন, সংগ্রাম, লামাপুঞ্জি, প্রতাপপুরের পদুয়া, সোনার হাট, বিছানাকান্দির লক্ষণছড়া, কুলুমছড়া ও জৈন্তাপুরের নলজুড়ি ও আগুছড়া এলাকার ২০০ একর ভূমি জোরপূর্বক দখলে নেয় বিএসএফ। এর মধ্যে পদুয়া-প্রতাপপুরে ৭০ একর, ডিবির হাওরে ৮০ একর, খাসিয়া হাওর-নলজুড়িতে ৩০ একর এবং কুলুমছড়া ও অন্যান্য এলাকায় ২০ একর।

নলজুড়ি খেলার মাঠ
ওপরের নির্দেশে কাঁদতে কাঁদতে পিছু হটেন বিজিবির জওয়ানরা
স্থানীয় দিলোয়ার হোসেন জানান, পদুয়া সীমান্তে ৫৭ বা ৫৮ মেইন পিলারের দৈর্ঘ্য লামাপুঞ্জি থেকে সোনার হাট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার। যেখানে বাংলাদেশের কৃষকরা কৃষি ক্ষেত করতো। ওই জায়গা নিয়ে ২০০৯ সালে ডিবির হাওর শাপলা বিলে গোলাগুলি হয়। স্থানীদের অনেকে আহত হন। কিন্তু ওপরের নির্দেশে বিজিবিকে পিছু হটতে হয়েছিল। সে সময় বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জহুরুল ও টুআইসি ছিলেন মেজর মামুন। নির্দেশিত হয়ে তারা কেঁদে কেঁদে সরে আসতে বাধ্য হন। পরে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরকে ওএসডি এবং মেজর মামুনকে সিলেট থেকে সদর দপ্তরে বদলি করা হয়।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, সে সময় এ দুই কর্মকর্তাসহ বিজিবির পুরো ব্যাটালিয়ন এমনকি সুইপার পর্যন্ত অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন দেশের এক ইঞ্চি মাটি ছাড়বেন না বলে। কিন্তু তৎকালীন সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিজিবি।

ছিটমহল চুক্তিকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, ১২৭৮-১২৭৯ পিলারের মধ্যে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার মাঠে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আলোকে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ করে পিলার বসানো হয়েছিল। ওই পিলারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ে খেলার মাঠসহ আরও কিছু কৃষি জমি। এরপর থেকে বাংলাদেশ অংশের লোকজন এই ভূমি দখলে রেখে ব্যবহার করে আসছিলেন। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির অধীনে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে সিলেট সীমান্ত এলাকার কিছু ছিটমহল ভারতের অংশে গেছে। কিন্তু নামে ছিটমহল বিনিময়, সে সময় সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশ এক ইঞ্চি ভূমিও পায়নি। যদিও কিছু বিরোধপূর্ণ স্থান (যেমন খেলার মাঠ) নিয়ে এখনো স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা হতে দেখা যায়। চুক্তি অনুযায়ী এগুলো হস্তান্তরিত হলেও কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে জায়গা ছাড়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পদুয়া, প্রতাপপুর, আমস্বপ্ন, কাঁঠালবাড়ি, কেন্দ্রি বিল, ইয়ামবিল এলাকা নিয়ে ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘাত হয়েছিল। ২০১০ সালের মধ্য ডিসেম্বরে তিন শতাধিক বিএসএফ সদস্য ও দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ সীমান্তের ৩০০ গজ ভেতর ঢুকে বন্দুক তাক করে ১২৭০ ও ১২৭১ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকার বিপুল ভূমি দখল করে নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর আহমদ বলেন, ২০১০-১১ সালে কেবল বাংলাদেশের অংশে জরিপ হয়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই জরিপ কাজ চলে। ওই বছর জরিপ কাজের নামে বাংলাদেশের জায়গা দখল হয়। মেইন পিলার থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ভেতরে পরিমাপ করা হয়েছিল।

শাপলা বিল
তিনি বলেন, জৈন্তাপুর নলজুড়ি থেকে বালুছড়া ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ২০০ থেকে ৫০০ গজ প্রস্থ। গোয়াইনঘাট-নলজুড়ি, আমস্বপ্ন, তামাবিল, ডিবির হাওরে সংগ্রাম, লামাপুঞ্জি, প্রতাপপুর, পদুয়া, সোনারহাট, লক্ষণ ছড়া, কুলুমছড়া, বিছানাকান্দি এলাকায় সে সময় মোট ২০০ একর ভূমি বিনাশর্তে ভারতকে দিয়ে দেওয়া হয়। এসব ভূমি হাওর, চারণভূমি, ধানক্ষেত, সবজি ক্ষেতের জায়গা ছিল। এছাড়া তামাবিল শুল্ক স্টেশন থেকে নোম্যান্স ল্যান্ড আগেই দখলে চলে গেছে। বাংলাদেশের শুল্ক বন্দর থেকে ভারতের দূরত্ব মাত্র ১৫/২০ গজ। এই প্লটের পূর্বে আমস্বপ্নও দখলে গেছে। এখন শাপলা বিল পর্যন্ত বাংলাদেশিদের যেতে দেওয়া হয় না, ওপার থেকে বাধা দেওয়া হয়।

তামাবিল এলাকার কয়লা পাথর আমদানিকারক ইলিয়াস উদ্দিন লিপু বলেন, পদুয়া এলাকার দখলকৃত ভূমি চার দলীয় জোট সরকারের সময় আনলেও পরে আওয়ামী লীগ তা ভারতকে দিয়ে দেয়। এখনো নলজুড়ি ভাইরাল খেলার মাঠ ভারতের দখলে। সেখানে বাংলাদেশিদের যেতে দেওয়া হয় না। অনেক কৃষি জমিতে ক্ষেত করতে দেওয়া হয় না।

জৈন্তাপুরের বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, পদুয়া বিল নিয়ে ২০০৯-২০১১ সাল পর্যন্ত বিএসএফ-বিজিবি লড়াই হয়। সে সময় দেশের এক ইঞ্চি জমি দেবো না বলে বিজিবির সঙ্গে নিজেও এগিয়ে গেছি। বলতে পারেন, সম্মুখ সমরের যোদ্ধা। কিন্তু এখন পদুয়া মূল বিলের ৫০০ বিঘার ওপরে ভারতের দখলে। জৈন্তাপুরের শ্রীপুর করমপুর ৬০ বিঘা এবং তামাবিল সংলগ্ন ১০০ বিঘার টিলাটিও বেদখল হয়ে গেছে। ছিটমহল চুক্তির সময় অনেক জায়গা অন্তর্ভূক্ত করে নিয়েছে ভারত। আমরা এক ইঞ্চিও পাইনি।

পান্থুমাই
স্থানীয়রা জানান, কুলুমছড়ায় ৬৩/৬৪ পিলার সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের অভ্যন্তরের জায়গা ভারতের দখলে গেছে। এখানে দেখানো হয়েছিল, ছিটমহল বিনিময় চুক্তির অধীনে এবং সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সীমান্ত পিলার স্থাপন ও চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮১ কিলোমিটার সীমানা বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ এর অধীনে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সীমান্ত এলাকার ভূমির বিষয়টি কূটনৈতিক বিষয়। সবগুলো বিজিবির পর্যবেক্ষণে আছে। সীমান্ত শাখায় সব তথ্যে আছে। আমরাও সব বিষয়ে জ্ঞাত, কিন্তু এসব বিষয় খুবই সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর)। বর্তমান অবস্থায় এগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD