বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ‘ভিসা গাইড সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রলোভন দেখিয়ে শুধুমাত্র চলতি বছরে প্রায় আড়াই হাজার লোকের কাছ থেকে কয়েক ধাপে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে জীবননাশের হুমকিও দেয়া হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর শাহআলী মার্কেটে ৯ম তলায় ভিসা গাইড সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৩ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, বিষয়ে পরামর্শ ও কাউন্সিলর এবং প্রতিষ্ঠানটির আইটি স্পেশালিষ্টকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান শেষে পলাশ কুমার বসু বলেন, ভিসা গাইড সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজ বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়া। কিন্তু সেই জায়গা থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরে এসে অনুমোদন না নিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে মোটা অংকের প্রতারণা করে আসছিল।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ গমনেচ্ছুদের কানাডা, জাপান ও ফিজি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনের চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর সারাদেশে তাদের দালালদের মাধ্যমে বিদেশ গমনেচ্ছুদের যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি আরো বলেন, এসব কারণে অভিযান শেষে দায় স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সি এস হাফিজ এবং এমডি মোশারফ হোসেনকে অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ৩২ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কাউন্সিলিংয়ের সাথে জড়িত আরিফুল ইসলাম ও আইটি স্পেশালিষ্ট সুজন রনিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়।
লাইটনিউজ