শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন জামায়াত আমির মরক্কোর হারে লন্ডনে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষ ইরান নীতিতে কোণঠাসা ট্রাম্প, হাতে নেই কোনো বিকল্প ইরানে হামলার পর ফের উত্তেজনা হ্রাসের চেষ্টা ট্রাম্পের ইসরাইলকে কড়া বার্তা ‘সম্ভাব্য’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা টানা বর্ষণের পূর্বাভাস, ১৪ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা ২২ বছর পর গৌরনদী আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘এখনো শেষ হয়নি’: নেতানিয়াহু গণহত্যার কুশীলব ৮০ পুলিশ কর্মকর্তার বিদায় চূড়ান্ত

বিদেশে প্রথম ‘ডিজিটাল বুথ’ হচ্ছে ইউসিবি ক্যাপিটালের

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : শেয়ারবাজারের ব্যপ্তি বাড়াতে বিদেশে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা হিসেবে ‘ডিজিটাল বুথ’ স্থাপনের সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এরই ধরাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট বিদেশের মাটিতে ডিজিটাল বুথ স্থাপন করে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।

আগামী বছরের ১৮ জানুয়ারি দুবাইতে এ ডিজিটাল বুথ চালু হবে। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বুথটি উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজও কানাডাতে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের বিদেশে বুথ স্থাপনের জন্য উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে আবেদন করেছে।

তবে ডিএসই ও সিএসইর সম্মতি নিয়ে বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের অনুমোদন পাবে ব্রোকারেজ হাউজগুলো। আর বিদেশে বুথ স্থাপনের ক্ষেত্রে বিএসইসর পাশাপাশি সে দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি লাগবে।

তথ্যমতে, গত ১৫ ডিসেম্বর ব্রোকারেজ হাউজ দুটি ‘ডিজিটাল বুথ’ স্থাপনের অনুমতি চেয়ে ডিএসই ও সিএসইর পাশাপাশি বিএসইসিতেও আবেদন করে। এর মধ্যে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট দুবাই ও পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ কানাডাতে ব্রোকারেজ হাউজ খোলার জন্য আবেদন করেছে। তবে বিদেশে ডিজিটাল বুথ স্থাপনের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতি নিয়ে বিএসইসতে আবেদন করার বিধান থাকলেও, ব্রোকারজে হাউজগুলো তা মানেনি। হাউজ দু’টি ডিএসই ও সিএসইর অনুমতি না নিয়ে বিএসইসিতে আবেদন করেছে। যেহেতু বিদেশে বুথ খোলার অনুমোদন এবারই প্রথম দেওয়া হচ্ছে, তাই বিষয়টিকে নমনীয়ভাবে দেখছে বিএসইসি।

তবে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে ডিজিটাল বুথ খোলার ক্ষেত্রে বিএসইসির সকল বিধান পরিপালন করা হচ্ছে।

বিএসইসির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশে ডিজিটাল বুথ চালু হলে বিদেশে অবস্থানরত অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। বিনিয়োগকারী বাড়লে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়বে। আর লেনদেন বাড়লে পুঁজিবাজারে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (ইন্টারমিডিয়ারিজ) আয় বাড়ার পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়বে। এতে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের সরাসরি লেনদেনের সুযোগ করে দেওয়া হলে তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এক্ষেত্রে ডিজিটাল আউটলেটে প্রবাসী বিনিয়োগকরী অর্থ জমা দিলেই ওইদিনই দেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে লেজার হিসাবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে খুব সহজেই বিনিয়োগকারীরা সরাসরি পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে পারবেন।

জানা গেছে, বিদেশে অবস্থান করা অনেক সম্পদশালী বাংলাদেশী রয়েছেন। যাদের প্রচুর অলস অর্থ রয়েছে। কিন্তু তারা বিনিয়োগ করার মতো কোন জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের ওই সঞ্চিত পুঁজি পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশের শিল্পায়নে কাজে লাগাতে চায় সরকার। তাই বিদেশে অবস্থানরত বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে ডিজিটাল আউটলেট বা বুথ চালু করার বিষয়ে ভাবছে বিএসইসি। এতে প্রবাসীরা সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন এবং নিজের বিনিয়োগ নিজেই পরিচালনা করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ডিজিটাল বুথ খোলার জন্য আবেদন করেছে। আমরা সে আবেদন যাচাই বাছাই করছি। সকল বিধি-বিধান পরিপালন করলেই প্রতিষ্ঠানটিকে বিদেশে বুথ খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।’

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হক বলেন, বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজ দেশের অভ্যন্তরীন ডিজিটাল বুথ খোলার জন্য আবেদন করছে। আবার কিছু হাউজ বিদেশে বুথ খোলার জন্যও আবেদন করেছে। বর্তমানে ডিএসই ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আবেদন যাচাই বাছাই করছে।’

গত ১৩ ডিসেম্বর বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সাক্ষরিত ডিজিটাল বুথ খোলার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মতিক্রমে যেকোনো স্টক ব্রোকার ডিজিটাল বুথের জন্য কমিশনে আবেদন করতে পারবে। সিটি করপোরেশনের মধ্যে, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও দেশের বাইরেও ডিজিটাল বুথ স্থাপন করা যাবে। ডিজিটাল বুথ পরিচালনার জন্য স্টক ব্রোকারের প্রয়োজনীয় কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা, আর্থিক সক্ষমতা ও জনবল থাকতে হবে।

আর বিদেশে বুথ খুলতে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্রোকারকে নন-জুডিশিয়াল ৩০০ টাকার স্টাম্পে অমীমাংসিত দাবি, বৈধ দাবি বা অপরিশোধিত দাবির ক্ষেত্রে তারা এককভাবে দায়বদ্ধ থাকবে বলে লিখিত দিতে হবে। ব্রোকার হাউজের পর্ষদ মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা যেকোনো শীর্ষ কর্মকর্তা বা পরিচালকের স্বাক্ষর থাকতে হবে সেই স্টাম্পে।

পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা (সিওও) মো. হুমায়ুন হাবিব জানান, ‘কানাডাতে ডিজিটাল বুথ খোলার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসতে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি।’

লাইট নিউজ

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD