যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৯ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন শ্রমবাজার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাবেই স্বর্ণের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আর ডলারের দুর্বলতা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরানের জন্য এটি একটি ‘শেষ সুযোগ’।
তবে ইরান এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রয়োজন হলে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে ফেড পিছপা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে। তবে তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারে এবং আগামী বছরের প্রথমার্ধে ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও মঙ্গলবার বেড়েছে। এদিন স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৭৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪৬ দশমিক ৫৯ ডলারে। প্যালাডিয়ামের দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ৫৫ ডলার।