শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

মিরপুর টেস্টে চার দিনেই হার বাংলাদেশের 

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল। তারই খেসারত দিতে হলো চার দিনেই বড় ব্যবধানে হেরে। মেঘ বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যেই ঢাকা টেস্টে ৮ উইকেটে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের অংশ এই টেস্ট হারে ধাক্কা খেল টাইগাররা।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৭২ রানের পুঁজি গড়তে পেরেছিল বাংলাদেশ। জবাবে নাঈম হাসানদের দারুণ বোলিংয়ে সফরকারী ক্যারিবীয়দের ২৪৫ রানেই আটকে দেয় স্বাগতিক দল। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতা। নাঈম হাসানের সর্বোচ্চ ৫২ রানের ইনিংসে কোনোমতে ১৪২ রান করে থামে বাংলাদেশ। তাতে লিড দাঁড়ায় ১৭০ রানের।

অল্প পুঁজি নিয়েও বোলিংয়ে যেভাবে চেপে ধরা দরকার ছিল, তেমন কিছু পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচ টিকিয়ে রাখতে দ্রুত ব্রেকথ্রুর বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজের শতরানের বেশি ওপেনিং জুটিতে তেমন পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে যায়। যতক্ষণে প্রথম উইকেটের পতন হয়, ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় হাত থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশের।

ক্যারিবীয় স্পিনাররা দুই ইনিংসেই দাপট দেখালেও ব্যর্থ হন বাংলাদেশের তাইজুল-মিরাজরা। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ব্রেকথ্রু আসে পেসারের হাত ধরেই। ২১তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বল জন ক্যাম্পবেলের লেগ স্টাম্প ভেঙে দেয়। ক্যারিবীয়দের ওপেনিং জুটি ভাঙে ১১২ রানে।

ম্যাচে বাংলাদেশকে যখন হার চোখ রাঙাচ্ছে, এই সময়ে ক্যাম্পবেলকে হাফ সেঞ্চুরি করতে না দেওয়ার সাফল্যই যেন বাংলাদেশের গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ তুলেছিল। ক্যাম্পবেল ৫৫ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৪৯ রানে আউট হয়েছেন। ততক্ষণে ব্র্যান্ডন কিং তার পঞ্চম ফিফটির দেখা পেয়ে গিয়েছেন। অথচ তারও পঞ্চাশের আগেই বিদায় নেওয়ার কথা ছিল। ৪৪ রানে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাত ফসকে জীবন পান এই ডানহাতি ব্যাটার। বলও সীমানা অতিক্রম করে। আর পরের বলে আরেকটি চার মেরে ৬৮ বলে ফিফটির দেখা পান কিং।

ক্যাচ মিসের পর আঙুলের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টাইগার অধিনায়ককে। কিছুক্ষণের জন্য ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ঢাকা টেস্টে যেন স্বাগতিক দলের জন্য চোটের মিছিলই বলা যায়। টেস্ট শুরুর একদিন আগে আঙুলে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। টেস্টের তৃতীয় দিনে গতকাল মাথায় পান আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হকও। তার কনকাশন সাব নেওয়াতে দ্বিতীয় টেস্টেও তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এ ছাড়া চোট নিয়ে খেলছেন লিটন দাসও।

পুঁজি দুইশোর কম হলেও মিরপুরের স্পিন বান্ধব উইকেটে আশা দেখছিল সমর্থকরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে মাঠে দর্শক উপস্থিতিও বাড়ছিল। কিন্তু তাদের শেষ পর্যন্ত হতাশই করেছেন টাইগার ক্রিকেটাররা। ৮ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট পায়। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে ১ রানে তাইজুল ইসলামের ক্যাচ বানান আরেক পেসার হাসান মাহমুদ। তবে এমন উইকেট হারিয়ে খুব একটা মন খারাপ করার কথা না সফরকারী দলের। ততক্ষণে জয়টা যে কেবল সময়ের অপেক্ষাই ছিল!

কাভেম হজ নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে নেন। ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে জয়সূচক রান করেন কিং। ১১৫ বলে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। হজ ২৭ বলে ৩১ রানে টিকেছিলেন। ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান করে ক্যারিবিয়ানরা।

এর আগে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে। ১৮ রানে অপরাজিত নেমে নাঈম হাসান ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের স্কোর টেনেটুনে ১৪২ রানে নেন। সিলেটে দ্বিতীয় তথা সর্বশেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD