শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেছেন। খবর এনডিটিভির।
নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। প্রথম দাবি হলো, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন এবং এই ব্যবস্থাকে পরিচালনা করার যোগ্যতা তার নেই। তাই তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে রাহুল বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন- প্রত্যেককে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তৃতীয় দাবি হিসেবে তিনি বলেন, যিনি এই পুরো ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী গত এক দশকে দেশটিতে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসেই একটি করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।সংবাদ প্রতিবেদন
সরকারের সমালোচনা করে রাহুল বলেন, এসব ঘটনার কারণে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে রাহুল গান্ধী বলেন, গত ১০ বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একজনেরও দণ্ড হয়নি। একজনও নয়। তার অভিযোগ, সরকার এ ধরনের অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।